
X
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর স্টেশনের কোয়ার্টার গুলোতে অবৈধভাবে ভাড়া ও জমিতে পস্নট বিক্রির হিড়িক শুরম্ন হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মচারীসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা
যোগসাজষে রেলের দু'পার্শ্বে হাজার হাজার কোটি টাকার মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি কৃষি বন্দোবস্ত্ম নিয়ে অবৈধভাবে বিক্রি করছেন। এসব ভূমিতে দেদারসে বাসাবাড়ি ও
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ফলে সেকশনের শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্নসহ এলাকায় কোটি কোটি টাকার কৃষিজমি ও ভূ-সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে।
জানা যায়, প্রভাবশালী মহল কর্তৃক রেলওয়ের কৃষি বন্দোবস্ত্ম নেওয়া জমিজমার সাথে পরিত্যক্ত জমি নিজেদের দখলে নিয়ে চড়া দামে ক্রয় বিক্রয় চলছে। কৃষি বন্দোবস্ত্মকৃত স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরা টিনসেড, পাকা ও আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। রেলস্টেশনের দক্ষিন পার্শ্বে ৩৭০ নম্বর খুঁটির পশ্চিম পার্শ্বের লিজকৃত কৃষিভূমিটুকুও জনৈক ব্যক্তি দখলে নিয়ে অবৈধ ঘর তৈরি করে বসবাস করারও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোয়ার্টারগুলো বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য করছেন শমশেরনগরে অবস্থানরত অবসরপ্রাপ্ত রেলমিস্ত্রি আব্দুল হাইসহ স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিরা। শমশেরনগর রেলস্টেশন এলাকায় কয়েকটি কোয়ার্টার জীর্নশীর্ণ দশা ধারণ করেছে। একইভাবে
রেলওয়ের সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজষে কোয়ার্টার সংলগ্ন ভূমি পস্নট আকারে লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করছেন। এক সময়ে রেলওয়ের পরিত্যক্ত এসব ভূমিতে নতুন নতুন প্রতিষ্টান ও বসতঘর তৈরি করা হচ্ছে। এতে হাজার হাজার টাকা বাণিজ্য করছেন রেলওয়ের কতিপয়
কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কৃষি বন্দোবস্ত্ম নেয়া ভূমিতেও পাকা দালান নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। এতে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
স্থানীয়রা জানান, রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয়ের অফুরন্ত্ম সুযোগ থাকলেও অবৈধভাবে জমি বেহাত হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে সেই সুযোগ থেকে হাতছাড়া হচ্ছে। ওই জোনের টিলাগাঁও, লংলা, ভাটেরা, কুলাউড়া, শমশেরনগর, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল, সাতগাও, রশিদপুর, লস্করপুর, শায়েস্ত্মাগঞ্জ ও নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ষ্টেশনের পাশের জমি অবৈধ দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মিত হচ্ছে।
শমশেরনগর রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার জামাল হোসেন জানান, কৃষি বন্দোবস্ত্ম নিয়ে এভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাসাবাড়ি ও দোকান গৃহ গড়ে উঠছে। রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারী এখানে অবস্থান করে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধভাবে কোয়ার্টার এলাকায় প্লট বিক্রি ও ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের কুলাউড়াস্থ উর্দ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. জুয়েল হোসাইন বলেন, রেলের কোয়ার্টার ভাড়া ও জমি দখল, বিক্রির করে নেয়ার বিষয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বাবু/জেএম