আদিতমারীর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খালেদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

সারাবাংলা

চুরির অভিযোগ উঠেছে আদিতমারী হাসপাতাল, লালমনিরহাট এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা.খালেদের বিরুদ্ধে।জানা গিয়েছে, আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য

2023-02-07T16:32:49+00:00
2023-02-07T16:32:49+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আদিতমারীর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খালেদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ!
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৫২৩)
X


চুরির অভিযোগ উঠেছে আদিতমারী হাসপাতাল, লালমনিরহাট এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা.খালেদের বিরুদ্ধে। 

জানা গিয়েছে, আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কক্ষে জমা ছিলো বিপুল পরিমান পুরাতন লোহার অ্যাংগেল। বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. খালেদ যোগদানের পূর্বে অত্র হাসপাতালের প্রধান এর দায়িত্ব পালন করেন ডা. তৌফিক আহমেদ। তিনি কোভিড ভ্যাক্সিন প্রদানের উদ্দেশ্যে উক্ত হাসপাতালের নষ্ট ও ক্ষয় হয়ে যাওয়া বিলবোর্ড ও লোহার অ্যাংগেল দিয়ে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ক্যাম্পাসের ভেতরেই হাসপাতালের মসজিদ সংলগ্ন উত্তরের বাউন্ডারী দেয়ালে বড় আকারের একটি ভ্যাক্সিন শেড নির্মান করেন যা এখনও দৃশ্যমান রয়েছে। এতে এলাকাবাসী সুশৃঙ্খল ভ্যাক্সিনসেবা পেয়ে দারুনভাবে উপকৃত হয়। অতিরিক্ত অ্যাংগেলের টুকরোগুলো তিনি নিলামের উদ্দেশ্যে ভূতপূর্ব স্টোরকিপার জনাব মাহফুজুল আলমের মাধ্যমে স্টোরে জমা রাখেন।

বিগত ০১/০৯/২০২২ সালে তিনি অন্যত্র বদলী হলে তার স্থলাভিষিক্ত হন বর্তমান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনাব ডা. খালেদ আহমেদ। যোগদান করেই তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সম্মানী বন্ধ করে দেন। রোগীদের প্যাথলজিকাল পরীক্ষার জন্য স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপালনরত ল্যাব টেকনোলজিস্ট জনাব শিমুল এর সম্মানী প্রদানেও গরিমসি শুরু করেন। তিনি ভ্যাক্সিন প্রদানকারী মাঠ কর্মীদের বেতন বন্ধ করে রাখেন প্রায় সময়। জানা যায়, রিপোর্ট লেখা পর্যন্তও তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফ গ্রুপের বেতন আটকে রেখেছেন এবং প্রদান করেননি। একই সাথে মাঠকর্মীদের প্রাপ্য বিভিন্ন সম্মানীভাতা থেকেও ১৫% করে টাকা কেটে রাখেন। এতে ক্ষিপ্ত মাঠকর্মীগণ ইতোমধ্যেই তাদের দুটি কোভিড ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামের সম্মানী নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উক্ত দুটি প্রোগ্রামের টাকা অদ্যবধি তার পকেটে রয়েছে এবং বিতরন হয়নি। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি মাঠকর্মীদের সাথে খাড়াপ ব্যবহার করছেন প্রতিনিয়ত। এতে মাঠকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। অন্যদিকে পূর্বোক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সময়কালীন সম্পন্ন হওয়া ক্ষুদে ডাক্তার প্রোগ্রামের প্রায় ১০ হাজার টাকাও আত্মসাত করেন তিনি। এব্যাপারে পূর্বোক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌফিককে ফোন দিলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্টাফ জানান, তিনি যোগদান করার পর থেকেই হাসপাতালটি অন্ধকারাচ্ছন্ন, নোংড়া ময়লা ও ভুতুড়ে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। একসময়ের লালমনিরহাটসহ পুরো উত্তরবঙ্গের সর্বাপেক্ষা আলোকজ্জল হাসপাতালটির একের পর এক আলো নিভে যাচ্ছে। অন্যদিকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের সম্মানী না দেয়ায় তারাও কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আজমলের কথা অনুযায়ী তিনি উঠবস করেন। কল্যান তহবিল নামে ভুতুড়ে তহবিল গঠন করে তিনি হাসপাতাল স্টাফদের নিকট থেকে প্রতি মাসে ১০০/- থেকে ৫০০/- টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছেন। অন্যথায় বিভিন্ন অযুহাতে বেতন বন্ধ করে দিচ্ছেন। তার এসব কুকর্মকে জায়েজ করতে তিনি যোগদান করতে না করতেই প্রধান সহকারী ও স্টোর কিপারের পদে পরিবর্তন এনেছেন। প্রধান সহকারীর দায়িত্বপ্রাপ্ত জনাব মাইদুল বিগত ২০১৯/২০ সালে অত্র হাসপাতালে টেন্ডারবাজী, দুর্নীতি, মাদকসেবন সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বলে পরিচিত। ২০২০ সালের শুরুর দিকে ডা. স্নিগ্ধা দেবনাথ নামে নবীনতম কর্মকর্তা অত্র হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কর্মকর্তা হলে মাইদুল তার সাথে মারাত্মক পর্যায়ের অসদাচরন করেন মর্মেও অভিযোগ আছে। পরবর্তী কর্মকর্তা ডা. তৌফিক এর দৃঢ়তায় ক্যাম্পাসে মাদকসেবনসহ তাদের যাবতীয় অনৈতিক প্রভাব বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়। অন্যদিকে স্টোর কিপারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জনাব সুজা একজন অফিস সহকারী। নিয়মমোতাবেক অফিস সহকারীর স্টোর কিপারের দায়িত্ব পাওয়ার কথা নয়।

চরমতম অনিয়মের মাঝেই তিনি গতকাল ০৪/০২/২০২৩ খ্রি. তারিখ ১ ভ্যান ও অদ্য ০৫/০২/২০২৩ ইং তারিখ ২ ভ্যান, আনুমানিক সাড়ে৩শ কেজি অ্যাংগেল লোহা, প্লেইনশিট ইত্যাদি বিক্রির উদ্দেশ্যে বাইরে পাচার করেন। এব্যাপারে স্টোর কিপার জনাব সুজার সাথে কথা বলে জানা যা, ডা. খালেদের নির্দেশেই তিনি এমন করেছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়, হাসপাতালের টিবি কর্নারে যে ৪টি তাক ইতোমধ্যেই বানানো হয়েছে সেগুলো ব্যবহার না করেই নতুন তাক এর কি প্রয়োজন হলো। এর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালেদ সাংবাদিকদের বলেন,আমাদের আউট সোর্সিং এর জন্য কোন ফান্ড থাকে না।তাই টাকা দিতে দেরি হয়আর পুরোনা ভাংরি বাহিরে নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের মালামাল সরকারি সম্পত্তি। এই সম্পত্তি হাসপাতালের বাইরে নেয়ার একমাত্র উপায় হলো নিলাম করা। প্রায় ৫শ কেজি লোহা বাইরে পাচারের ঘটনা স্বাভাবিক বা বিধিসম্মত নয় কোনোভাবেই।

স্থানীয়রাসহ অফিসস্টাফগণ ইতোমধ্যেই উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন। তারা উক্ত সরকারী সম্পত্তি চুরি করে বাইরে বিক্রি করার যথোপযুক্ত শাস্তি দাবী করেছেন।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy