প্রকাশ: শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৮:১৪ পিএম আপডেট: ১৮.০২.২০২৩ ৮:১৬ পিএম (ভিজিট : ২৫২)

X
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে মান্তা সম্প্রদায়ের জন্য মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মন্তাজ ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে নদীতে নৌকায় ভেসে বেড়ানো মান্তা সম্প্রদায়কে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় উপহারের ঘরে ঘরে গিয়ে এ জনগোষ্ঠীর বদলে যাওয়া জীবনের খোঁজ খবর নেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশে মান্তা সম্প্রদায়ের জন্য মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এরা সবসময় নদীতে বসবাস করতেন। কখনো তীরে ওনাদের কোন ঘরবাড়ি ছিল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম তাদের জন্য এই সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরাও এসেও দেখলাম কিভাবে একটি ঘরের মালিকানা প্রাপ্তিতে ওনাদের জীবন বদলে দিয়েছে। তাদের জীবন পরিবর্তন এসেছে। তারা বিদ্যুৎ পেয়েছেন। ঘরে বসে টেলিভিশন দেখতে পাচ্ছেন। তাদের সকলের চোখেমুখে আমি আনন্দ দেখতে পেয়েছি। আমি তাদের শিশুদের স্কুলে যাওয়ার তাড়না দেখতে পেয়েছি। এবং অনেক তৃপ্তি আমি দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা মান্তা সম্প্রদায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তারাও এটার সুবিধাভোগী হয়েছে। তার দৃষ্টান্ত বা নজির আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এই এলাকার এই স্পটের পাশে মান্তা সম্প্রদায়ের জন্য আরও ৩০টি নতুন ঘর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আশা করছি-তারা খুব শিগগিরই এ বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নতুন ঘরে উঠবে। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি- তারা সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে কৃতজ্ঞ।
ঘর পরিদর্শনের আগে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস ঘাট এলাকায় মুজিববর্ষে পুনর্বাসনকৃত মান্তা সম্প্রদায়ের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এসময় মান্তা সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আপনাদেরকে দেখতে এসেছি যে, আপনারা কেমন আছেন। আমি এসে শুনলাম এখানে ২৯টি পরিবার ইতিমধ্যেই আপনারা ঘর পেয়েছেন। এখন আরও ৩০টি পরিবারের জন্য ঘর তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৫৯টি ঘর আপনারা পাচ্ছেন। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে আপনাদেরকে উপহার দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনায় এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান দেশের সকল মানুষ যেন তার উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল ভোগ করতে পারেন। এমনকি পিছিয়ে পড়া যারা, তারাও। এজন্য তিনি বিশেষ কার্যক্রম নিয়ে থাকেন। তার একটি হলো এই আশ্রয়ণ প্রকল্প। এবং তার মাধ্যমে গৃহহীন মানুষদের গৃহ দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডিক্লেয়ার (ঘোষণা) দিয়েছেন বাংলাদেশের কোন মানুষ গৃহহীন থাকবে না।'
এ সভা শেষে মান্তা সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ, গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সালেক মূহিদ ও রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ।
বাবু/জেএম