প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:১৩ পিএম (ভিজিট : ১৫৪)

X
মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া ব্যাংক একাউন্ট থেকে ৪৩ লক্ষ টাকা উঠিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করে বিধবা মাকে বিতাড়িত করে বসতঘর ও দোকানে তালা মেয়ে দিয়েছে জামাই ও মেয়ে। কেশবপুর উপজেলার গোপসানা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গোপসানা বাজারে গেলে বৃদ্ধা মা হাসিনা বেগম (৭৪) সাংবাদিকদের কাছে হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, আমার স্বামী ঈমান আলী গাজী বেঁচে থাকা কালীন সময়ে তার অর্জিত টাকাসহ জমি বিক্রয় করা যাবতীয় টাকা কেশবপুর সোনালী ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ পোষ্ট অফিসে ফ্যামিলি ডিপোজিট করে রাখেন। এবং মেয়ে আনোয়ারা খাতুনকে ব্যাংকের নমিনি নিযুক্ত করেন।
গত ১০-০২-২০২২ সালে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর আমিসহ আমার অন্যান্য ছেলে-মেয়ে ও সকল ওয়ারিশগণ স্বামীর রেখে যাওয়া অর্থ সম্পদ ও টাকা পয়সা ভাগ বন্টন করার লক্ষে মেয়ে আনোয়ারার দারস্থ হলে, সে জানায় সময়মত টাকা উত্তোলন করে সকল ওয়ারিশগণকে বন্টন করা হবে বলে আশ্বাস্থ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে আনোয়ারা- জামাই আনোয়ার হোসেন ও সতিনের ছেলে রেজাউল ইসলামের পরস্পর যোগসাজসে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক আমাকে এবং আমার স্বামীর সকল ওয়ারিশগরণর অগোচরে আনুমানিক ৬৩ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে মেয়ে আনোয়ারা ও তার স্বামী ও সৎ ভাই মিলে সেই টাকা আত্মসাৎ করে।
এ ব্যাপারে ঐ বৃদ্ধা মায়ের বড় সন্তান আবুল বাসার সাংবাদিকদের জানান, আমার পিতা জীবিত থাকাবস্থায় উল্লেখিত গোপসানা বাজারে অবস্থিত ১০ শতক জমির মধ্যে ০৮ শতক জমি বিক্রি করে দেয়। পিতার মৃত্যুর পর অবশিষ্ট ২ শতক জমির মধ্য থেকে স্থাপনাসহ দু-ভাই সিরাজুল ও কাইফুর ও মাতা হাসিনা বেগমের অংশ রেজিঃ করে নেই। যার দলিল নং-৪০৭০।
পিতার মৃত্যুর পর মা দ্বোতলায় বসবাস করত ও নিচে দোকান ঘর ভাড়া দেওয়া রয়েছে। সম্প্রতি পিতার ব্যাংকের টাকার হিসাব চাওয়ায় বৃদ্ধা মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে আনোয়ারা গং উপরে ও নিচে তালা মেয়ে দিয়েছে।
ব্যাংকের টাকা ও ঘরে তালা মারার ব্যাপারে আনোয়ারা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ব্যাংকের নমিনি যেহেতু আমার নামে তাই ব্যাংকের সব টাকার মালিক আমি। তাছাড়া দোকানঘরসহ বসতবাড়ি আমার টাকায় করা তাই তালা মেরে দিয়েছি।
বাবু/জেএম