প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ৩:৫১ পিএম আপডেট: ০২.০৩.২০২৩ ৩:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১৭৫)

X
খাদ্যগুদাম থেকে যথারীতি ভিজিডির চাল উত্তোলন হলেও তা বিতরণ হয়নি। দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে দুই মাসের ভিজিডির চাল উধাও হয়ে যাওয়ায় হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ্ উদ্দিন কাদের রুবেল।
তাই উপকারভোগীকে চালের পরিবর্তে নগদ টাকা দিয়ে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন তিনি। গত বছর দু’মাসের চাল উত্তোলনের পর তা বিতরণ শুরু করেন চলতি বছর মার্চের ১ তারিখ। এদিন মোট ৩২৮ জন ভিজিডি কার্ডধারীর মাঝে ৪৬ জনকে চাল দেয়ার পর চাল শেষ হয়ে যায়। এদিকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান স্থানীয় উপকারভোগীরা। এ যেন কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের ভিজিডি কর্মসূচীর চাল আত্মসাতের চিত্র এটি।
স্থানীয় কয়েকজন উপকারভোগী সাংবাদিকদের জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি চালের পরিবর্তে উপকারভোগীদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এক্ষেত্রে দু’মাসের জনপ্রতি ৬০ কেজি চালের পরিবর্তে ১২শ টাকা করে হাতে ধরিয়ে দেন। যা এক মাসের ৩০ কেজি চালের মূল্য। বাকি এক মাসের চাল চাইতে গেলে তখন তাদেরকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন চেয়ারম্যান সাহেব। পরে তোপের মুখে পড়ে গত বছরের বকেয়া চাল বিতরণ শুরু করেন বুধবার (১ মার্চ)। এদিন মোট ৩২৮ জন ভিজিডি কার্ডধারীর মধ্যে মাত্র ৪৬ জনকে চাল দেয়ার পর চাল শেষ হয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ উপকারভোগী চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়িতে ফিরেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ্ উদ্দিন কাদের রুবেল জানান, ভিজিডি কর্মসূচির দুই মাসের চাল কখন কীভাবে বাকি পড়েছে বুঝতে পারছেন না তিনি। এ কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে ২৮২ জনকে বকেয়া চাল দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বাকি চাল শিগগিরই বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।
গৌরীপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ বাবুল মিয়া জানান, গত বছর ডিসেম্বরের ২০ তারিখ সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন কাদের রুবেল নভেম্বর ও ডিসেম্বরের ভিজিডির দুই মাসের ১৯ টন ৮০ কেজি চাল উত্তোলন করেছেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেহানা আক্তার খাতুন সাংবাদিকদের জানান, সহনাটির ইউপি চেয়ারম্যান গত বছরের দুই মাসের চাল উত্তোলন করলেও এতোদিন বিতরণ করেননি। নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপণ করছিলেন। অবশেষে তোপের মুখে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ৩২৮ জন কার্ডধারীর মধ্যে মাত্র ৪৬ জনকে চাল দিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ্ উদ্দিন কাদের রুবেল বাকি কার্ডধারীদের চাল আত্মসাত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন সাংবাদিকদের জানান, উল্লেখিত ইউনিয়নে ভিজিডির চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভিজিডি কর্মসূচিতে চালের পরিবর্তে টাকা বিতরণের কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
বাবু/জেএম