প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ৬:১৫ পিএম (ভিজিট : ৩২৫)

X
‘কম্বাইন হারভেস্টারে সরিষা কর্তন, সময় এবং অর্থ দুটোই সাশ্রয়’ এই প্রতিপাদ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে কম্বাইন উপজেলার জিনোদপুর ব্লকে মালাই গ্রামে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে পরীক্ষামূলক সরিষা কর্তন করা হয়েছে।
জানা যায়, সাধারণত এক বিঘা জমির সরিষা কর্তন করতে পাচ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, মাড়াই করতে প্রয়োজন আরো দুজন শ্রমিক এতে সময় লেগে যায় প্রায় দুদিন খরচ পরে প্রায় ৩৫০০ টাকা। সরিষা মৌসুমে সকল জমির সরিষা একই সময়ে কর্তন করতে হয় সেসময় শ্রমিকের সংকট দেখা যায়, পক্ষান্তরে বিলম্বে সরিষা কর্তন করা হলে পরিপক্ক সরিষা দানা জমিতে খসে পরে যায়। পাশাপাশি সরিষা উঠিয়ে বোরো ধান আবাদ করতে বিলম্ব হয়ে যায়। এতে করে বোরো ধানের উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রভাব পরে।
এক বিঘা জমির সরিষা কর্তন এবং মাড়াই করে বস্তাবন্দি করতে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিট এবং খরচ হয় ১৫০০ টাকা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এই সুন্দর ব্যবহার দেখে মুগ্ধ এলাকার কৃষাণ-কৃষাণীবৃন্দ। কৃষক ইয়াছিন মিয়া জানান, এতো অল্প সময়ে এই মেশিন দিয়ে সরিষা কর্তন এবং মাড়াই করা যায় দেখে সরিষা আবাদ বৃদ্ধি করতে আমরা আগ্রহী। আরো একজন কৃষক রীনা আক্তার বলেন, সরকার এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের কষ্ট কমিয়ে দিয়েছে আমরা এখন সরিষা মৌসুমে শ্রমিক সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া লাগবে না।
কৃষি উদ্যোক্তা আলামিন জানান, কম্বাইন হারভেষ্টার দিয়ে আগে কেবল ধান, গম কর্তন এবং মাড়াই করা হতো এই মৌসুমে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে আমরা সরিষা কর্তন করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছি, আল্লাহ রহমতে সফল হয়েছি আগামী মৌসুমে ব্যাপক হারে মানুষ এই প্রযুক্তি গ্রহণ করলে সময় এবং অর্থ দুই সাশ্রয় হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের অগ্রাধিকারমূলক একটি প্রকল্প হচ্ছে সমন্বিত খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় এই ধরনের যন্ত্র হাওর অঞ্চলে ৭০% এবং সমতল অঞ্চলে ৫০% ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ধরনের প্রযুক্তি যত জনপ্রিয় হবে কৃষি কাজে তত বেশি গতি আসবে।
বাবু/জেএম