প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ৭:৩৬ পিএম (ভিজিট : ১৫৫)

X
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম ও ছাত্রলীগ নেতা আবিদ হোসেনের বাসা ভাঙচুর, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর, সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লেবু।
বিশ বছর পর কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে গত বছরের ৬ জুন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওইসময় কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দরা সভাপতি শহিদুল ইসলাম লেবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম মিয়ার নাম ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে সবার সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে বলে জানানো হয়। চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কমিটি নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরেই উত্তপ্ত ঘাটাইল আওয়ামী লীগ। কমিটিকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিতরা এবং কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ান ২৭ ফেব্রুয়ারি। এতে আহত হন উভয় পক্ষের ১১ জন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, গত বছরের ৬ জুন সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শক্রমে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সস্পাদকের নাম ঘোষিত হয়। পরবর্তীতে তৃণমূলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের সন্তানদের সমন্বয়ে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গত বছরের ১১ অক্টোবর অনুমোদিত হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার আসামি আমানুর রহমান খান রানার অনুসারিরা মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেন।
প্রকৃতপক্ষে কমিটিতে টাকার বিনিময়ে পদ বানিজ্য হয় নাই। কমিটিতে ত্যাগী নেতার স্থান পেয়েছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিলে রানার অনুসারিরা আওয়ামী লীগের ৮ জন নেতাকর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর, ছাত্রলীগ নেতা আবিদ হোসেনের বাসা ও সরকারি জিবিজি কলেজ ছাত্র সংসদ ভাঙচুর করে। বক্তব্যে বলা হয়, ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত এ আসনে জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে রানা নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তিনি সরাসরি নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন তাঁদের দল থেকে বহিস্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে আমানুর রহমান খান রানার অনুসারি আনেহলা ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান বলেন, কোনো প্রকার ছবি ভাঙচুর করা হয়নি। আর আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার সম্পৃক্ততা নেই। কমিটির বিরুদ্ধে আমরা তৃণমূলের ত্যাগী, নিবেদিত ও নির্যাতিত নেতৃবৃন্দ আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বাবু/জেএম