
X
কক্সবাজারের খুরুশকুল মালিকানা নিয়ে বিচারাধীন একটি জমি দুই দিনের মধ্যে দুইবার দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে ইউনিয়নের টাইমবাজার হিন্দুপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে ওই জমির দখলে থাকা রূপন দে জানান। এ সময় হামলাকারীরা তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে বলেও রূপন দের অভিযোগ।
অভিযুক্ত কাজল দে (৪৫) পিতা মৃত দিনবন্দু দে নেতৃত্বে হামলা করেন, টিটু (৪৫) পিতা মৃত গুরুঙ্গ, রাহাল প্রকাশ (ভুট্টো) (৪৫) পিতা মৃত কানি চরন দে, মল্লিকা দে (৩৫) স্বামী কাজল দে, মধু (১৯) কাজল দে, রাজিব দে (৩৫) পিতা মৃত বরদ দেসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জন ব্যক্তি বাড়ি ঘর ভাঙচুর ও হামলা করেন।
এর আগে ওই জমিতে বালু, ইট ফেলে দখলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বার বার স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরে কোন সুরেহা পাইনি বলে জানান রূপন দে। জমির মালিক রূপন দে জানান, আমার ঘর ভিটার মালিকানা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার চাচাতো ভাই কাজল'র সাথে আদালতে মামলা চলমান।
রূপন দে জানান, সর্বশেষ ২০২২ সালে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত কর্তৃক উভয়পক্ষকে ওই জমিতে কোন ধরনের কাজ না করতে এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়। এখনো পর্যন্ত আদালতের ওই রায় বহাল আছে বলে অভিযোগকারী জানান।
অভিযোগকারীর স্ত্রী জানান, হঠাৎ শনিবার সকালে আমার স্বামীর চাচাতো ভাই কাজল এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ঘরে এসে হামলা এবং ভাঙচুর চালায়। শুধু হামলা নয় ভাঙচুরসহ আমার চাচির মাথার চুল টেনে প্রচণ্ড আঘাত করে।
রূপন দের স্ত্রী জানান, আমরা হামলাকারীদের নির্যাতন সয্য করতে না পেরে ৯৯৯ এ ফোন দেই। ফোন দেয়ার কিছুক্ষনের মধ্যে সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই বিপ্লব এর নেতৃত্বে একটি পুলিশের দল ঘটনা স্থলে পৌঁছেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এসআই বিপ্লব ঘটনা স্থল পরিদর্শন শেষে উভয় পক্ষকে রাত ৮টায় থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রকাশ নামে একজন ব্যক্তি জানান, খুরুশকুল ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার স্বপন কান্তি দে'র ইশারায় এবং দখলবাজ কাজলের নেতৃত্বে দুইদিনে দুইবার রূপন দের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজল দের সাথে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করার পরে ও রিসিভ না করায় সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই বিপ্লব জানান, ৯৯৯ এর কলে আমরা খুরুশকুল হিন্দু পাড়া রূপন নামের একটি বাড়িতে যাই। গিয়ে শুনি সকালে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের আলোকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাবু/জেএম