প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩, ৫:৫৯ পিএম (ভিজিট : ১৮০)

X
ঢাকার আশুলিয়ায় অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে তানভীর (৮) নামে এক শিশুকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (০৯ মার্চ) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।
এর আগে, বুধবার (০৮ মার্চ) আশুলিয়ার বটতলা আমান স্পিনিং মিলের পাশের নর্দমা থেকে শিশু তানভীরের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার ও টংগাবাড়ী এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন- ঢাকা জেলার মো. আনোয়ার হোসেন (২০), মো. সাকিব হোসেন (২৬) ও মো. তামজিদ আহমেদ ওরফে রাফি (১৪)। ভিকটিম শিশু তানভীর আহম্মেদ টংগাবাড়ী এলাকার মসজিদের ইমাম মো. সোলায়মানের ছেলে। সোলায়মান কুমিল্লার বাসিন্দা। তানভীর টংগাবাড়ী এলাকার একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
শিশু তানভীরের পিতা মো. সোলায়মান জানান, শবেবরাতের নামাজ পড়ে মোনাজাত করার সময় তানভীরকে মসজিদ থেকে অপহরণ করেন মুদি দোকানদার আনোয়ার হোসেন। তার মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তিনি। রাতে টাকা দিতে না পারায় তানভীরকে হত্যা করেন আনোয়ার ও তার সহযোগীরা।
র্যাব জানায়, গত ৭ মার্চ আশুলিয়ার টংগাবাড়ী এলাকায় ৮ বছরের মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু তানভীর নিখোঁজ হলে পরদিন ভিকটিমের পিতার নিকট ফোনের মাধ্যমে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যক্তি ভিকটিমকে অপহরণ পরবর্তী মুক্তিপণ দাবিসহ হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় ভিকটিমের পিতা নিরুপায় হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিসহ র্যাব-৪ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত ঘটনাটি সকল প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে র্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল ঘটনাটি ছায়া তদন্তের পাশাপাশি ও জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। ইতোমধ্যে আশুলিয়া থানাধীন টংগীবাড়ী এলাকায় জনসাধারণ একটি বস্তাবন্দী শিশুর লাশ দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করে এবং র্যাব-৪ এর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম শিশু তানভীর আহম্মেদের লাশ সনাক্তকরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের সম্পর্কে সুনিশ্চিত হবার পর মূলহোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা তাদের কৃত অপরাধের কথা স্বীকার করে। র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, উক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বাবু/জেএম