
X
প্রলয় ঘূর্ণিঝড়ে ১৯৯১ সালে এক বছরের সেই শিশু জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছিল। শিশুটি বড় একটি বাটিতে কোন এক জায়গা থেকে ভাটিয়ারিতে চলে আসে। জোয়ারের পানি চলে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন লোক পুকুরে একটি বড় রূপার বাটি ভাসতে দেখেন। বাটি তুলতে গেলে তারা একটি ছোট শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে তুলে ভাটিয়ারী বাজারে নিয়ে আসে। উদ্ধারকারীরা ওই অচেনা শিশুটির দায়িত্ব কয়েকজনকে দিতে চাইলেও কেউ নিতে রাজি হয়নি। পরে এই শিশুর ত্রাণকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসেন উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাব্বির আহমেদ চৌধুরীর বড় ভাই শাহরিয়ার চৌধুরী। তিনি শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার নাম রাখেন মোহাম্মদ মুসলিম। মুসলিমকে পরম যত্নে নিজের ছেলের মতো বড় করেছেন। বড় হয়ে তিনি চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং গাড়ি চালাতেন। পরবর্তীতে তিনি বিবাহ করে এবং ৩ সন্তানের জনক হন। কিন্তু তার কোনো বাসস্থান ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় পরিবার নিয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছিলেন। অবশেষে তার অমানবিক জীবন শেষ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাচ্ছেন তিনি। তার সমস্ত দুঃখ এক নিমিষেই যেন শেষ হয়ে গেল।
আগামীকাল বুধবার তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার জঙ্গল ভাটিয়ারিতে একটি জমিসহ ঘর পেতে যাচ্ছেন।
আগামীকাল বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৩য় পর্যায় (অবশিষ্ট) ও ৪র্থ পর্যায়ে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর বরাদ্দ কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব দিদারুল আলম এমপি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে ১২০টি বাড়িসহ দুইশত একর জমি উপহার দেবেন। যার বাজার মূল্য ১৬ লাখ টাকা। ঘরে বসবাসকারীরা বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশনসহ নাগরিক জীবনের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম, সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি সৌমিত্র চক্রবর্তী, ফায়ার স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ছাবেরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নব বিবি জুলি, ভাটিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ও সদস্য অহিদুল আলম প্রমুখ।
এসময় ভাটিয়ারি ইউনিয়ন পরিবষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ১৯৯১ সালে ভেসে আসা এক বছরের শিশু মুসলিমসহ এই উপহারের ঘর পাবেন গৃহহীন ১২০ টি পরিবার। তিনি আরো বলেন, ভাটিয়ারীতে বসবাসকারী ৬০ বছর বয়সী সখিনা নিজের বাড়ি না থাকায় বহু বছর ধরে দুই মেয়েকে বিয়ে দিতে পারেননি। বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামী মারা যায়। শুরু হয় অমানবিক জীবন। মানুষের কাছে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বাড়ি না থাকায় তিনি তার দুই মেয়েকে বিয়েও দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ঘর পাওয়ার খবরে মেয়েদের জন্য এখন পাত্র আসছে।
ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাব্বির আহমেদ চৌধুরী জানান, জোয়ারের পানিতে ভেসে এক বছরের শিশুটি। তার বড় ভাই শাহরিয়ার চৌধুরী তাকে আশ্রয় দেন। তার কোনো বাড়ি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাচ্ছে তার সবচেয়ে বড় অর্জন।
বাবু/ এনবি