প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০২৩, ৮:৩০ পিএম (ভিজিট : ২১০)

X
বগুড়ায় করতোয়া নদী ভরাট করে সড়ক নির্মাণের দায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষীতে বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক নজিবর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (২০ মার্চ) বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজা পারভীনের সাজা দিলেও সন্ধ্যায় নিজ কার্যালয়ে এসে দণ্ডপ্রাপ্তের নাম পরিবর্তন করে মম ইন ইকো পার্কের ব্যবস্থাপক জাকিরুল ইসলামকে দায়ী করেন তিনি।
জরিমানার ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধ না করায় জাকিরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে সাধারন মানুষ খুশি হলেও পরে রায় পরিবর্তন করে অন্যজনকে জেলে পাঠানোর ঘটনায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইউএনও এ ঘটনাকে সঠিক উল্লেখ করলেও আইনজীবীরা বলছেন, রায় পরিবর্তন করা অন্যায় ও আইনের দৃষ্টিতে সঠিক হয়নি।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকায় টিএমএসএসের মম ইন ইকো পার্কের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, আবর্জনা ফেলে নদী ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ, নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পেয়ে বগুড়া সদরের ইউএনও ফিরোজা পারভীন গত শনিবার ওই পার্কে অভিযান চালান। এ সময় টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম ঘটনাস্থলে এসে দাবি করেন, ভরাট করা জায়গাটি তার। আর এলাকাবাসীরা পারাপারের স্বার্থে করতোয়া নদীতে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। পরে তিনি আদালতকে মুচলেকা দেন যে, জায়গাটি মাপ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।
সোমবার ইউএনও আবারও ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি অফিস ও টিএমএসএসের সার্ভের এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা করতোয়া নদীর সীমানা চিহ্নিত করেন। এলাকাবাসী সাক্ষ্য দেন, রাস্তাটি টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম নির্মাণ করছেন। ফোনে হোসনে আরা বেগম দাবি করেন, বগুড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ওই স্থানে আবর্জনা ফেলছেন।
এই বিষয়ে ইউএনও মেয়রকে জিজ্ঞাসা করেন। মেয়র রেজাউল করিম বাদশা ইউএনওকে জানান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালকের ইচ্ছা অনুসারে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
বাবু/ এনবি