
X
স্বাধীনতার পর থেকে বগুড়ার সাতটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরাই বেশি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে হওয়ায় বগুড়ার মানুষ বরাবরই বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতেন। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বগুড়ার মানুষ পুত্রবধু হিসেবে তাকে দুটি আসনে বরাবরই বিপুল ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করে আসছিলেন। কিন্তু দূর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ না নিতে পারায় তাঁর দুটি আসনসহ প্রয় সব কটি আসন হাত ছাড়া হয়ে যায় বিএনপির। এসব আসন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দখলে নেয়। সবশেষ বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় ৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি বিজয়ী হয় দু’টি আসনে (বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৪)। বাঁকি ৫ টি আসনের মধ্যে বগুড়া-১ ও বগুড়া-৫ আসনে এমপি নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী, বগুড়া-২ ও বগুড়া-৩ আসনে এমপি হয় জাতীয় পার্টির এবং বগুড়া-৭ আসনে এমপি নির্বাচিত হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি যেভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে বিএনপিকে সেভাবে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। তবে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের হিসেব নিকেশ পাল্টে যেতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা)
যমুনার চরাঞ্চল আর নদী ভাঙ্গনের জনপদ হিসেবে পরিচিত সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গড়া এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৫ জন। বগুড়ার অন্যান্য আসনগুলোর মতো এ আসনেও বিএনপি বরাবরই সাফল্য পেয়ে আসছে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুর্গে আঘাত হেনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনিই জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান এমপি নির্বাচিত হন। এবারও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তিনি। এছাড়া আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ম. রাজ্জাক ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
আগামী নির্বাচনে হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। বিএনপির সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রাথী হয়ে নির্বাচনে লড়তে চান। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন, সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব জাকির, ড্যাব বগুড়ার সভাপতি ডা: শাহ মো: শাহজাহান। এ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রিয় সদস্য ও সারিয়াকান্দি উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। বগুড়া জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন নাশকতা মামলায় এলাকা ছাড়া হলেও এ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ)
পুণ্ড্রনগরের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে গঠিত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাপার জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ এমপি নির্বাচিত হন। তিনি আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলের প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। আওয়ালীগের সাথে জোট না ভাঙ্গলে তিনি আবারো মনোনয়ন পাবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, সেক্রেটারি মোস্তাফিজার রহমান, ব্যবসায়ী আকরাম হেসেন ও শিবগঞ্জ পৌর মেয়র তৌহিদুর মানিক। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম, জেলা বিএনপি নেতা এম আর ইসলাম স্বাধীন, সাবেক এমপি অ্যাড. একেএম হাফিজুর রহমান।
এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করলেও তাঁর জন্মস্থান শিবগঞ্জ হওয়ায় তিনি এ আসন থেকে বিগত সময়ের মতই লড়তে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। দলীয় নিবন্ধন না থাকলেও এই আসনে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে বলে ইতিপূর্বে দলটি সামাজিত যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের প্রার্থী ঘোষনা করেছে। যেকোনো প্রতীকে জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী সাবেক এমপি শাহাদাতুজ্জামান লড়তে পারেন এই আসন থেকে। কোন কারণে বর্তমান এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্না নির্বাচনে অংশ না নিলে তাঁর শ্যালক উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু প্রার্থী হতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া-৩ (আদমদিঘি ও দুপচাঁচিয়া)
বগুড়ার শস্যখ্যাত এলাকা আদমদিঘী ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে ছিল বিএনপির দখলে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে এ আসনটি বিনা ভোটে চলে যায় জাতীয় পাটির দখলে। বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম তালুকদার এবারও এ আসনে জাতীয় পাটির মনোনয়ন প্রত্যাশী। স্থানীয় জাপা নেতা তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদও লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহী। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম রাজু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সোলাইমান আলী মাষ্টার ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খাঁন সেলিম।
এ আসন থেকে বিএনপি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা। তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদন্ড রায় ঘোষনা হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। এ অবস্থায় বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন আব্দুল মোমিন তালুকদারের সহোদর ভাই আব্দুল মোহিত তালুকদার। এছাড়া আরও রয়েছেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু ও অ্যাড. আতাউর রহমান মুক্তা।
বগুড়া-৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম)
বিএনপি-জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন থেকে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেন পদত্যাগ করলে সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জাসদ (ইনু) সমর্থিত রেজাউল করিম তানসেন মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলা ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে পরাজিত করে রেজাউল করিম তানসেন এমপি নির্বাচিত হোন। কাহালুর সাবেক পৌর মেয়র ও দলের উপজেলা সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজ নৌকা প্রতীক নিয়ে আগামী নির্বাচনে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তিনি আশা করছেন। বিএনপি নির্বাচনে গেলে সম্ভাব্য প্রার্থী হবেন সাবেক এমপি মোস্তফা আলী মুকুল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জেলা বিএনপিনেতা আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এড. রাফি পান্না। বিএনপির সাবেক এমপি ডা: জিয়াউল হক মোল্লা নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলে তার কর্মী সমর্থকরা বলছেন। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ফারুক আহম্মেদ, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুস সালাম বাবু এ আসনে জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী। জামায়াত নেতা সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়তে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
বগুড়া- ৫ (ধুনট ও শেরপুর)
উপজেলা পর্যায়ে বগুড়া জেলার সবচেয়ে পুরাতন শহর শেরপুর। এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসন। স্বাধীনতার পর বগুড়া ৫ আসনে (শেরপুর-ধুনট) প্রথম থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ (নৌকা) চারবার, বিএনপি (ধানের শীষ) পাঁচবার এবং জাতীয় পার্টি (লাঙল) একবার জয় লাভ করেছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবর রহমান বিজয়ী হয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে নেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি বিনাভোটে আবারও নির্বাাচিত হন। পরপর তিনবার এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় তাদের ভীত অনেকটা মজবুত হয়েছে বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি হাবিবর রহমান। এ আসনে নৌকা প্রতীকের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক টিআইএম নুরুন্নবী তারিক, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাড. জান্নাতুল ফেরদৌসি রূপা। এছাড়ও এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মো. মাহফুজুর রহমান এ আসন থেকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হতে চান বলেও শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জনসংযোগে এগিয়ে আছেন সাবেক এমপি শিল্পপতি জি এম সিরাজ। শেরপুর পৌর মেয়র জানে আলম খোকা, জেলা বিএনপি নেতা ধুনট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিউজ্জামান খোকন ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন। শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতের দবির উদ্দিন এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারেন বলে নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন।
বগুড়া-৬ (সদর)
সদর উপজেলার এ আসনে বরাবরই নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় বিনা ভোটে সংসদ সদস্য হন জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম ওমর। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষনা হওয়ার পর বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমীর। তিনি আসনটি ছেড়ে দেয়ায় শূণ্য আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হোন জি এম সিরাজ। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে নেতা কর্মীরা বলছেন। এছাড়াও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন ও পৌর মেয়র ও বর্তমান সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
সম্প্রতি বিএনপির এমপি জিএম সিরাজ দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করায় অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান আকন্দ। তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেলে পুনরায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ আসনে লড়তে চান। বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটি আগামীতে আর হারাতে চায় না আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, বর্তমান এমপি জেলা আ.লীগের সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সফিক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। সদর থানা সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। বগুড়া-৬ আসনে জামায়াত বিগত বেশ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এ কারণে তারা এ আসনে প্রার্থী দিতে চায়। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আবিদুর রহমান সোহেল এর নাম।
বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর)
বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর বাড়ি। এ কারণে গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গড়া বগুড়া-৭ আসনটি বরাবরই ছিল বিএনপির আধিপত্য। ১৯৯১ সাল থেকে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া প্রার্থী হয়েছেন এই আসনে। পরে এই আসন ছেড়ে দিলে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এখানে উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
বিএনপি থেকে যাকেই এখানে ভোটযুদ্ধে মনোনয়ন দেয়া হবে, তিনিই বিজয়ী হবেন এমনটি আশা করেন বিএনপির নেতা কর্মীরা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারাদেশে যখন বিএনপির প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা পরাজিত হয়েছেন, তখন মওদুদ আহমদের মতো শীর্ষ নেতাকে খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া এই আসন থেকে নির্বাচিত করে সংসদে নিয়ে গেছে বিএনপি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জাপা প্রার্থী অ্যাড. আলতাফ আলী। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে এ আসনেও তারেক পত্নী ডা. জোবায়দা রহমান নির্বাচন করতে পরেন বলে দলীয় নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বিএমএ বগুড়া শাখার সভাপতি ডা: মোস্তফা আলম নান্নু, জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক টি জামান নিকেতা, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আসাদুর রহমান দুলু, বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের আহবায়ক রফি নেওয়াজ খান রবিন। এছাড়াও বর্তমান এমপি রেজাউল করিম বাবলু এ আসন থেকে পুনরায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
বাবু/এনএইচ