অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ষড়যন্ত্র

ইমরান আলী

রাজধানী

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করতে একটি বিশেষ মহল নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসকে ঘিরে নানা

2023-04-04T16:20:49+00:00
2023-04-04T16:20:49+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ষড়যন্ত্র
দুই শতাধিক এলাকা ঘিরে নজরদারি
ইমরান আলী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:২০ পিএম   (ভিজিট : ১৬৫)
X


রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করতে একটি বিশেষ মহল নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে রমজান মাসকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রও হচ্ছে। অতিসম্প্রতি রাজধানীর বনানী ক্লাবে গোপন বৈঠককালে বিএনপির অর্ধশতাধিক এবং গুলশানের শাহাজাদপুরে জামায়াতের ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা চক্রান্তকারীরা যে কোনো মুহুর্তে নাশকতা চালাতে পারে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এ ধরনের আশঙ্কাকে ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এমনকি পুলিশের পোশাক ও সাদা পোশাকের টহলও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরো রাজধানীর দুই শতাধিক স্থানকে চিহ্নিত করে পুলিশ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় নজরদারী বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদরদপ্তরে মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কেএম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আনতে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো গোষ্ঠি যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না করতে পারে সেজন্য তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে থানা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করে যাচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে নানা ধরনের অপতৎপরতা চলছে। বিশেষ করে রমজান ও ঈদ ঘিরে নানা চক্র তৎপর বলেও জানানো হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমান বছর নির্বাচনী বছর। ঈদের পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এ সময়টাতে রাজধানীসহ সারাদেশেই একটি চক্র তৎপরতা শুরু করে। সম্প্রতি রাজধানীর বনানী ক্লাবে বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা মিলিত হয়ে গোপন বৈঠক করে। গোয়েন্দা পুলিশ এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই মিটিংয়ে রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন তারা। পাশাপাশি নাশকতা চালানোর পরিকল্পনাও হচ্ছিল। এরপরপরই গুলশানের শাহাজাদপুরে এমন একটি মিটিংয়ে মিলিত হয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সেখানেও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আটক করে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। যারাই রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকবে তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। 
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থা এ রকম আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

চিহ্নিত দুই শতাধিক এলাকা :
গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, ডিএমপির বিশেষ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, মিরপুর, কাফরুল, পল্লবী, শাহআলী, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, কোতোয়ালি, লালবাগ, বাড্ডা, যাত্রবাড়ী। ডেমরা থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশি অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে। মিরপুর এলাকায় ১২ নম্বর থেকে ১৪ নম্বর সেকশন পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও খুনখারাবি বেশি ঘটছে। মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, কাঁটাসুর, বিহারিপট্টি এলাকায় অপরাধের মাত্রা এখন বেড়ে যাচ্ছে। ভাষানটেক, মানিকদী, কচুক্ষেত সন্ত্রাসীদের আখড়া। পল্ল¬বী থানার বাউনিয়া বাঁধ, বিহারি কলোনি এলাকায়ও অপরাধ কার্যক্রম বাড়ছে। সবুজবাগ ও খিলগাঁও থানা এলাকার মান্ডা, ঝিল প্রজেক্ট এলাকা, নন্দীপাড়া, মানিকনগর, ত্রিমোহনী, নাসিরাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ক্রমশ বাড়ছে। 
এছাড়া মতিঝিল থানা এলাকায় এজিবি কলোনি, শাহজাহানপুর, ফকিরাপুল, রেলওয়ে কলোনি, গোপীবাগ, টিটিপাড়া, রামপুরা থানার বনশ্রী, বাড্ডা থানা এলাকার নূরের চালা, বেরাইদ, ছোলমাইদ, শাহজাদপুর, খিলক্ষেতের নামাপাড়া, কুড়িল, নিকুঞ্জ এলাকা, উত্তরা থানার উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানা এলাকার মৈনারটেক, আটিপাড়া এলাকায় অপরাধ বেশি সংঘটিত হচ্ছে। ডেমরা, সানারপাড়, বড়বাড়ি, ভবনবাগিচা, মুরাদপুর, সারুলিয়া, টেংবা, কোনাপাড়া, শহীদনগর, শ্যামপুর ওয়াসা পুকুরপাড়, মিরহাজিরবাগ, ফরিদাবাদ, কুতুবপুর এলাকা ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত।

সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার কয়েকটি মাদ্রাসা ঘিরে গোয়েন্দারা নজরদারী করে চলেছেন। এই সকল মাদ্রাসা বহিরাগতরা এসে অবস্থান করে। পরে তারা নানা ধরনের নাশকতা ঘটিয়ে আবার চলে যায়। এছাড়াও গুলশান এলাকাকে ঘিরেও বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন ক্লাবের পার্টিকে কেন্দ্র করে উচ্ছৃঙ্খলতা হয়। এসব দমনে রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গুলশানের ক্লাবগুলোকে ঘিরে এই উচ্ছৃঙ্খলতা বেশি। সেখানে পার্টির নামে মদ জুয়ার আসর বসে যা গুলশনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছেন।

এদিকে চলমান রমজান ও ঈদ উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে জোরালো কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে নানা গোষ্ঠি অপতৎপরতায় লিপ্ত। পাশাপাশি ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যেন ধর্মীয় উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য পুলিশের মনিটরিং জোরদার করতে হবে। আইজিপি বলেন, এ কাজে বিট অফিসারদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকার প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে অবহিত থাকে। কোথাও কোনো ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধকল্পে নিয়মিতভাবে গান চেকিং করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আরও বেশি তৎপর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেন আইজিপি।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা বেড়েছে। জনগণ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে প্রতিনিয়ত সেবা পাচ্ছে। তিনি জনগণকে আরও উন্নত সেবা প্রদানের জন্য সচেষ্ট থাকতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র জানায়, আইজিপির নির্দেশনার পরপরই রাজধানীর নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে পুরো রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারীর উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সেই মোতাবেক পুরো ডিএমপিতে নজরদারী বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশকে টহল ডিউটি করার সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বনানী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করে নজরদারী বাড়িয়ে দিয়েছি। সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করে চলেছে।

শাহআলী থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়ার পর থানা এলাকায় বিশেষ নজরদারী চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আমরা সাদা পোশাকে টহল বাড়িয়েছি।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, মিরপুর বিভাগের মধ্যে অন্যতম পল্লবী থানায় নাশকতা রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিদিন অভিযান চলছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাকে ঘিরে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। থানা এলাকার রামপুরা বাজার, টিভি রোড, তিতাস রোডসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারী নেয়া হয়েছে।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy