সীতাকুণ্ডে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে ছোট-বড় অনেক কারখানা

মুসলেহ উদ্দীন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

সারাবাংলা

# সীতাকুণ্ডের বড়-বড় মার্কেটগুলোতে নেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা# ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মৌখিকভাবে বলে দায় সারছেন# উপজেলার ১৫

2023-04-05T12:47:28+00:00
2023-04-05T12:47:28+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
অগ্নি নিরাপত্তায় উদাসীনতা
সীতাকুণ্ডে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে ছোট-বড় অনেক কারখানা
মুসলেহ উদ্দীন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩, ১২:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ২১৬)
X


# সীতাকুণ্ডের বড়-বড় মার্কেটগুলোতে নেই  অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা
# ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মৌখিকভাবে বলে দায় সারছেন
# উপজেলার ১৫ টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট কারখানার মধ্যে ১০ টিতে ফায়ার সেফটি ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে লাশের মিছিল এবং হাসপাতালে হতাহতদের আর্তনাদ দেখেছে গোটা বিশ্ব। অসতর্কতার কারণে ঘটছে ছোট-বড় নানা অগ্নি দুর্ঘটনা ও বিষ্পোরণের ঘটনা।

এসব অগ্নি দুর্ঘটনায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। প্রতি বছর অগ্নি দুর্ঘটনায় কোটি কোটি টাকার জান-মালের ক্ষতি হলেও সতর্কতা অবলম্বনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদাসীনতায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ফায়ার সেফটি ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিতে উদাসীন।

গত বছর (৪ জুন) উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর এলাকায় বিএম ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বিস্ফোরণে ১৩ ফায়ারকর্মীসহ ৫১ জন নিহত ও আহত হন অনেকে।

এরপর গত (৪ মার্চ) বিকেলে কদমরসুল কেশবপুর এলাকার সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে অক্সিকো লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় ২৫ জন আহত ও ৭ জন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গত (১১ মার্চ) সকালে ছোট কুমিরা এলাকায় এসএল গ্রুপের মালিকানাধীন ইউনিটেক্স স্পিনিং কারখানার  ভাড়া নেওয়া তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ফাইটার টিম, বিজিবিসহ ২৩ টি ইউনিটের সমন্বয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তার পরেই প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে। এসব আগুনের ঘটনায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের নির্দেশে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে গাফিলতির নানা চিত্র। চিহ্নিত করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অক্সিজেন প্লান্ট। এতে বেশিরভাগই কোন ধরনের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিলনা বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।

ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পরে জেলা প্রশাসকের তৎপরতায় কারখানা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ প্রদান করে ফায়ার সার্ভিসকে এবং প্রতিটি কারখানার সম্পর্কে প্রেতিবেদন আকারে দিতে বলা হয়। এতে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার ১৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ১০টিতে ফায়ার সেফটি ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নুরুল আলম দুলাল জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে সম্পুর্ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

নুরুল আলম দুলাল বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সীতাকুণ্ড উপজেলায় সকল অক্সিজেন প্লান্টের নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সেফটি ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আছে কিনা পরিদর্শন করেছি। ১৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্টের মধ্যে ১০টিতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। বাকি ৫টিতে নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে।

ফায়ার অফিসের সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার যেসব অক্সিজেন প্ল্যান্টে ফায়ার সেফটি ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই সেগুলো হলো- কেশবপুরে লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড, ভাটিয়ারিতে কবির অক্সিজেন লিমিটেড, শীতলপুরে আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেড, মাদামবিবির হাটে এসোসিয়েড অক্সিজেন লিমিটেড এবং বড় কুমিরায় গোল্ডেন অক্সিজেন লিমিটেড।

এছাড়া কদমরসুল শীতলপুরের ব্রাদার্স অক্সিজেন লিমিটেড, শীতলপুর অক্সিজেন, শীতলপুরের রিগ্যাল অক্সিজেন, মধ্যম সোনাইছড়ি শীতলপুরের মানতি স্টিল এণ্ড অক্সিজেন ও অক্সিকো লিমিটেডেরও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই এবং তাদের কারখানায় বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় মজুত অবশিষ্ট পাঁচটি অক্সিজেন কারখানা হল- কুমিরার উত্তর মসজিদ্দা অবস্থিত জিপিএইচ অক্সিজেন লিঃ, মিরশ্বরাইয়ে বিএসআরএম অক্সিজেন রিজার্ভার কারখানা, বড় কুমিরায় কে. আর অক্সিজেন, বার আউলিয়ার সুবেদার অক্সিজেন এবং মাস্টার স্টিল এণ্ড অক্সিজেন লিমিটেড।
 
তবে কিছু কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে তারা অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনার জন্য আবেদন করে রেখেছেন। তারা শীঘ্রই এটি পাবেন বলে আশ্বা করছেন।

অপরদিকে, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গড়ে উঠছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এই উপজেলাটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র পরিণত হওয়ায় আধুনিক সজ্জিত বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক ভবন এবং আধুনিক শপিংমল তৈরি হচ্ছে। প্রতি বছর আধুনিক নকশায় বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও অগ্নি নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে ভবনগুলো। এসব বহুতল ভবন নির্মাণে ইমারত আইন না মানার কারণে অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে সুশীল সমাজ বলছে, তদারকি ও আইনি ব্যবস্থার অভাবে অগ্নি দুর্ঘটনার হাত থেকে জানমাল রক্ষা করা যাচ্ছে না। তারা বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি গড়ে উঠছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আধুনিক শিল্প-কারখানায় কয়েকটিতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বড় বড় মার্কেট ও বিপনি বিতানগুলোতে রাখা হয় না। বিশেষ করে লাইব্রেরি, লেপ তোষকের কারখানায় অগ্নি দুর্ঘটনা বেশিই ঘটে।

বিএম ডিপো কন্টেইনার ও সীমার অক্সিজেন কারখানা, তুলা গোড়াউনসহ ছোট-বড় বেশকিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে শিল্প কারখানা, আবাসিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার নুরুল আলম দুলাল জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সব মালামাল পুড়ে গেছে।
 
একের পর এক বিস্ফোরণে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা ব্যাপক আকার ধারণ করলেও এখনো টনক নড়ছে না ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস অনেক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, নজরদারী বাড়িয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখে না তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় আনা হবে।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy