নাটোরে কলেজছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ৬ জনের ফাঁসি

নাটোর প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের দায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

2023-04-05T16:28:57+00:00
2023-04-05T16:28:57+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
নাটোরে কলেজছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ৬ জনের ফাঁসি
নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:২৮ পিএম   (ভিজিট : ১৬০)
X


নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের দায়ে ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা ভিকটিমকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় দেন। এই মামলায় কোনো তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় একজনকে খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ৬ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। এ মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিসহ ৫ জন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামের ছাব্বির আহমেদ (৩০), জামাইদিঘি গ্রামের রেজাউনুল হক (৩১), সিংড়া উপজেলার নাছিয়ারকান্দি গ্রামের নাজমুল ইসলাম (৩১), মহিষমারি গ্রামের রাজিবুল হাসান (৩০), দেবত্তর গ্রামের রিপন আলী (৩১) ও সিহাবপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪০)।

অপরদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, সিংড়ার মহিষমারি গ্রামের মনিরুল ইসলাম (৩০), সিহাবপুর গ্রামের আতাউল ইসলাম (৩৪), খায়রুল ইসলাম (৩৭) ও রেজাউল করিম (৪২)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে আসামি নাছির হোসেনকে (৩১) খালাস দেওয়া হয়েছে।

নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২০১২ সালে ১৯ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে জেলার বড়াইগ্রামের চান্দাই এলাকার বাসিন্দা রাজশাহী সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী জরুরি কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় পথে তার প্রেমিক সাব্বির আহমেদের সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাত হয়।

এক পর্যায়ে ফুসলিয়ে বেড়ানোর কথা বলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রেট্রো বাংলা এলাকায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে প্রেমিক সাব্বির ও তার সহযোগী নাজমুল হক, মোঃ রাজিবুল হাসান, মোঃ রিপন ও মোঃ শহিদুল ওই কলেজ ছাত্রীকে অন্যত্র বেড়ানোর কথা বলে ভ্যান যোগে কলম মির্জাপুর গ্রামে নিয়ে যায়।

ঘুরাফেরার এক পর্যায়ে রাত হলে ওই ছাত্রী বাড়ি ফেরার কথা বললে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায় তারা। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলম মির্জাপুর এলাকার ঈদগাঁ মাঠে নিয়ে প্রেমিক সাব্বির আহমেদ ও তার সহযোগি মোঃ মনিরুল ইসলাম, মোঃ খায়রুল ইসলাম, মোঃ আতাউল ইসলাম এবং মোঃ রেজাউল করিমসহ আরও ২/৩ জন মিলে দলবদ্ধ ভাবে রাতভর ধর্ষণ করে ওই কলেজ ছাত্রীকে। এতে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে ওই ছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে ধর্ষনকারীদের পালানোর সময় তারা আটক করেন। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থল যান এবং পুলিশের কাছে আটককৃতদের সোর্পদ করা হলে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ অবস্থায় তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে পুলিশের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। অন্যদিকে স্থানীয়রা ওই কলেজ ছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় স্বজনদের কাছে পৌছে দিলে তারা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরের দিন ২০ অক্টোবর সকালে ওই কলেজছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সিংড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিংড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হায়দার মোঃ ফয়জুর রহমান তদন্ত করেন। তদন্তকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান ও রওশন আলম আসামিদের স্বীকারোক্তি নথিভুক্ত করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি আটক ৮ আসামি, পলাতক ৩ আসামিসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যায়। তবে ২০১২ সালেই বাদীর আপসনামা জমা দিয়ে মামলাটির সব আসামি নাটোরের ট্রাইব্যুনাল থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছিল। এ ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিল করেন এবং ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি সশরীর আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আপসের বিষয়টি তৎকালীন আইনসচিব নিজেই সরেজমিন তদন্ত করেছিলেন। পরে ফের মামলাটি মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলে যায়।

এরপর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলার দীর্ঘ শুনানী, সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রমাণ শেষে আদালতের বিচারক  জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম অভিযুক্তদের মধ্যে সাব্বির আহম্মেদ, রেজাউনুল ওরফে রাব্বী, নাজমুল হক, রাজিবুল হাসান, রিপন ও শহিদুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। এছাড়া মনিরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, আতাউল ইসলাম ও রেজাউল করিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একলাখ টাকা করে জরিমানা করেন।

এসময় নাছির হোসেন নামের একজনের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস প্রদান করেন আদালত। মামলায় রায়ে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে প্রদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মামলার রায় ঘোষণার সময় ৬ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। এ মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিসহ ৫ জন এখনও পলাতক রয়েছে। অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান বলেন, এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্ট রয়েছে।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy