প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩, ৬:০৯ পিএম (ভিজিট : ১৪২)

X
চট্টগ্রাম নগরীতে স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ পানির ট্যাংকে ফেলে আত্মগোপনে চলে যাওয়া ঘাতক স্বামী হাসান আকন্দ (২৭)’কে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই। একই সাথে ছায়া তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর সর্জিনা আক্তার (২০) হত্যার রহস্য উম্মোচন করেছে পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো টিম।
পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, গত বছর ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা আয়েশার মার গলি, খলিল হুজুরের বিল্ডিং ৫ম তলার পানির ট্যাংকের ভিতর থেকে ভাড়াটিয়া সার্জিনা আক্তার (২০) গলায় ওড়না পেচানো লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে এ সংক্রান্তে নিহতের খালা স্মৃতি বেগম (২৮) সার্জিনার স্বামী মো. হাসান আকন্দকে আসামি করে ইপিজেড থানায় এজাহার দায়ের করে। থানা পুলিশ ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো টিম আলোচ্য হত্যা মামলার ঘটনাটি ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। ছায়া তদন্তকালে ভিকটিমের স্বামী মো. হাসান আকন্দ সম্পর্কে জানা যায়, ভিকটিমের স্বামী হাসান আকন্দ একজন রিক্সা চালক ছিল এবং কোন প্রকার ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করতেন না। বিয়ের পর আসামির পরিবারের সাথে সার্জিনা আক্তারের সম্পর্ক ভাল না থাকায় সে বাপের বাড়িতে বসবাস করতেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শহরে এসে ইপিজেডে চাকরি শুরু করে। সার্জিনা আক্তারের ঔরষে মো. হাসিব (৭ মাস) নামে একজন পুত্র সন্তান রয়েছে। কর্মস্থলে যাওয়ার সময় পুত্রকে পার্শ্ববর্তী একটি বাসায় রেখে যেতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া লেগে থাকতো।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান জানান, মূলত সার্জিনা হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয় ৩ নভেম্বর ২০২২ তারিখে। সেদিন তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। এসময় স্বামী হাসান স্ত্রী সর্জিনাকে ধাক্কা দেয়, এতে সে দেওয়ালে আঘাত পেয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়। তৎক্ষণাৎ স্বামী হাসান স্ত্রী সর্জিনা আক্তারের বুকের উপর বসে গলায় ওড়না পেচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে সে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে মধ্যরাতে ঐ ভবনের ছাদে পানির ট্যাংকের ভিতর লাশ ফেলে আসে। পরদিন আশে পাশের লোকজনকে জানায় তার স্ত্রী ঝগড়া করে বাসা থেকে চলে গেছে। পরদিন ঘটনা জানাজানি হয়ে যাবে এই সন্দেহে হাসান তাদের ৭ মাসের বাচ্চাকে রেখে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে চলে যায়।
পিবিআই মেট্রোর ছায়া তদন্ত টিম বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে হাসানের সাময়িক অবস্থান ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। কিন্তু সুচতুর হাসান আকন্দ ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন করে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রী নগর থানার হাসারা দক্ষিণ লস্করপুর আবুল হোসেনের গরু ফার্মে চাকরি শুরু করে। গতকাল (১২ এপ্রিল) পিবিআই টিম ঘাতক হাসানকে সেখান থেকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয়। গ্রেফতার পরবর্তীতে হাসান তার স্ত্রী সর্জিনা আক্তারকে হত্যার বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে। আসামিকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বাবু/জেএম