চার বছরে ৪ পিলার, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা

সারাবাংলা

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার পাহাড়পুর বাজারসংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি

2023-04-14T14:21:01+00:00
2023-04-14T14:21:01+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নেত্রকোনায় মগড়া নদীর সেতু নির্মাণ
চার বছরে ৪ পিলার, ভোগান্তিতে ২০ গ্রামের মানুষ
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩, ২:২১ পিএম   (ভিজিট : ২৩২)
X

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার পাহাড়পুর বাজারসংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ বন্ধ রেখে উধাও। ইতিমধ্যে সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদকালও শেষ হয়ে গেছে। সেতু কবে নির্মাণ হবে তা কেউ বলতে পারছে না। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ। 

নেত্রকোনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর পাহাড়পুর-মঙ্গলসিধ সড়কের পাহাড়পুর বাজারসংলগ্ন মগড়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৮ টাকা। পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে ‘তালুকদার নির্মাণ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদকাল ধরা হয় এক বছর। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দুই বছরের বেশি সময় চলে গেলেও সেতু নির্মাণ হয়নি।

সব মিলিয়ে সেতুর কাজ হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ। সেতুটি না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতু না থাকায় বর্ষাকালে নৌকায় আর শুকনো মৌসুমে হেঁটে নদী পাড় হয়ে পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কামতলা, স্বরমুশিয়া, সুনই, আটিকান্দা, পোখলগাঁও, মোবারকপুর, বানিয়াজান, ছয়াশিসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করতে হয়। পাহাড়পুর-মঙ্গলসিধ সড়কটি দিয়ে মানুষ আটপাড়া উপজেলা ও সেতুর বাজার হয়ে জেলায় যোগাযোগ করে থাকে। কিন্তু সেতু না হওয়ায়ি এলাকার সহস্রাধিক শিক্ষার্থীসহ লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 

শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই পাশের পিলারসহ নদীর মধ্যে দুই স্থানে দুটি করে শুধু ৪টি পিলার তোলা গয়েছে। তাতে রড বেরিয়ে আছে। সেতু নির্মাণের কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। সেখানে ঠিকাদারের লোকজন বা কোনো শ্রমিক নেই। সেতুর লাগুয়া বাজারের ব্যবসায়ীসহ শতাধিক লোকজন সাংবাদিক দেখে জড়ো হন। এ সময় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

কামতলা গ্রামের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী রাহিদুল ইসলাম, কৃষক সবুজ মিয়া, বিষ্ণুপুরের বিল্টু মিয়া, পাহাড়পুরের জলিল মিয়া, বাজারের ব্যবসায়ী রিপন মিয়া, সাইফুল মিয়াসহ অন্তত ২৫ জন জানান, দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার চলে গেছে। এরপর থেকে আর কেউ এসে খোঁজ নেয়নি। পিলার নির্মাণের সময় নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এ সময় স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও কাজ হয়নি। পাহাড়পুর এলাকার ভ্যানচালক মোবারক হোসেন বলেন, সেতুর কাজ প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কোনো শ্রমিক আসেন না। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। ভাটা পড়া নদীতে অনেক সময় মোটরসাইকেল চালাতে গেলে উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। 

কামতলা গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্রিজের কাজ মনে হয় আর হবে না। লোকজন কাজ বন্ধ করে চলে গেছে। আদৌও কী ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ হইব?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম তালুকদার বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘কাজটি আমি নিজে করিনি। আমার লাইসেন্স দিয়ে কেন্দুয়ার দীপক ব্যানার্জি ও আলয় বাবু নামের দুজন করছেন। আগে কাজের গতি ভালো ছিল। কিন্তু করোনায় নির্মাণসামগ্রীর দাম প্রচুর বেড়ে যাওয়ায় এখন কাজ বন্ধ আছে। সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে নিয়ে জানতে চাইলে দীপক ব্যানার্জির ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম শেখ ফোন ধরেননি। তবে আটপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আল মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘মগড়া সেতুর কাজটি নিয়ে ঠিকাদার খুবই ভোগাচ্ছে। একাধিকবার সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

বাবু/জেএম 







  বিষয়:   ভোগান্তি  মানুষ 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy