প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:৩৩ পিএম (ভিজিট : ১০২৩)

X
একই পরিবারের সহোদর চার ভাই। বাবা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বছির উদ্দিন। শুক্রবার ভোর রাতে সেহরি খেয়ে বাড়ি সংলগ্ন চরপুবাইল দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে গেলো সহোদর বড় ভাই বিপুল (৫০) ও আরেক ভাই নজরুল ইসলাম (৪০)।
হঠাৎ মসজিদের ভিতরে নামাজরত অবস্থায় পিছন দিক থেকে নজরুলকে রামদা দিয়ে কুপ দিলো তার আরেক সহোদর বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম লিটন (৪৫)। এসময় বড় ভাই বিপুল জাহাঙ্গীরকে ফেরাতে ব্যস্ত হয়ে যায়। সেই সুযোগে ছোটভাই শাহীন আলম (৩৫) মসজিদে ঢুকে চাপাতি দিয়ে নজরুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসময় বড় ভাই বিপুল ও তার দুই ছেলে সাজ্জাদ (২২) ও জান্নাত (১৭) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে বড় ভাই বিপুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) ভোর রাতে নির্মম এ ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সদর ইউনিয়নের চর পুবাইল গ্রামে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা যায়।
তাদের মা ফাতেমা খাতুন আহাজারি করে বলেন, আমাকে আমার বড় ছেলে বিপুল এবং সেজো ছেলে নজরুলই দেখাশোনা করতো। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল এবং নজরুলের সাথে আমার অপর দুই ছেলে জাহাঙ্গীর ও শাহীনের বিরোধ চলে আসছিলো। এমনকি জাহাঙ্গীর ও শাহীন আমার নামেও একটা গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মামলা করেছে। আর এখন তারাই আমার নিরপরাধ ছেলে নজরুলকে মসজিদে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই মসজিদের ইমাম শামীম মিয়া জানান, আমরা যখন রুকুতে যাবো তখনই জাহাঙ্গীর এসে নজরুলকে রামদা দিয়ে একটা কুপ দেয়, পরে জাহাঙ্গীরকে তার বড় ভাই বিপুল ফিরাতে গেলে তাদের ছোট ভাই শাহীন মসজিদের ভিতরে ডুকে নজরুলকে এলোপাতাড়িভাবে ঘাড়ে, হাতে, পায়ে, মাথায় কুপাতে থাকে। আমি বাঁধা দিতে গেলে আমাকেও মারাত্বকভাবে আঘাত করে। পরে আমার চিৎকারে লোকজন আসতে শুরু করলে তারা দুজন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ পীরজাদা শেখ মোহাম্মদ মোস্তাছিনুর রহমান জানান, নিহত নজরুল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়ায় লাশের প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন মামলা করা হয়নি। মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। আসামি ধরার চেষ্ঠা চলছে।
বাবু/জেএম