প্রকাশ: শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩, ৪:১১ পিএম (ভিজিট : ২৫৬)

X
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূর্যকান্দি-ধরন্তি গ্রামের লোকজনের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ফয়সাল মিয়া (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়কের কালীকচ্ছ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ফসয়াল উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব কুট্টাপাড়া গ্রামের রকিব মিয়ার ছেলে। তিনি পড়া শোনার পাশাপাশি কালিকচ্ছ বাজারে ব্যবসা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামের ইকবাল চৌকিদারের ছেলে আকাশ মিয়া (৩০) ও একই ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়া (২৫) মোটরসাইকেলে লাঠি দিয়ে সামান্য আঘাত করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আকাশ ও তাঁর লোকজন সূর্যকান্দি গ্রামের মামুন মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে আহত করেন। এ ঘটনায় সাড়ে ৭টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা-বল্লম নিয়ে কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়ান।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, সকালে দুই গ্রামের কয়েকজন যুবকের হাতাহাতির ঘটনার জের ধরে রাতে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে, সংর্ঘষে প্রচুর ককটেলের বিস্ফোরণ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ককটেলের আঘাতে ফয়সাল মিয়া নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা ফয়সালকে উদ্ধার করে প্রথমে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে, সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সংঘর্ষের সময় ককটেলের স্প্লিন্টারের আঘাতে ফয়সালের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ১১ জনকে আটকসহ ১০টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বাবু/জেএম