প্রকাশ: সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩, ৯:১১ পিএম আপডেট: ১৭.০৪.২০২৩ ৯:২৬ পিএম (ভিজিট : ১৮৯)

X
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১ নং খোড়াগাছ ইউনিয়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাবিখা, কাবিটা, টিআর নগদ অর্থ, এক শতাংশের আওতায় গৃহীত প্রকল্প ও নন ওয়েজ কস্ট পিআইও ভিত্তিক প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের কাজ কোনোটির আংশিক আবার কোনোটির পুরো সম্পন্ন দেখিয়ে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েছ। প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করায় জনক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে ভোট করে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে জয়ের জন্য অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। এ জন্য এখন প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় হচ্ছে। এমনকি চেয়ারম্যান ৪-৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদে থাকায় ওইসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমন অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন নীরব।
জানা যায়, উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নে রুপসী বাশটারী আনিস মেম্বারের বাড়ি থেকে মোড় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের জন্য ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা বরাদ্দ রয়েছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আখিরাহাট কলেজ মাঠ সংস্কারের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে কিন্তু কলেজ মাঠেও কোনো কাজ হয়নি। মাঠটি আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছে। এখানেও কোনো কাজ না করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। রুপসী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাট বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই বিদ্যালয়ের মাঠে কিছুটা মাটি ভরাট করতে দেখা গেছে। তবে প্রকল্পের পুরো টাকা ব্যয় করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে খোড়াগাছ ইউনিয়নে ১৮টি প্রকল্পের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্প এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোনোটির আংশিক কাজ করা হয়েছে আবার অনেক প্রকল্পের কোনো কাজই করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, রুপসী উচ্চ বিদ্যালয় মূল ফটকের সামনে একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। পুরোনো জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই ধুঁকছে অথচ সংস্কারের জন্য সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয় না। সেইসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয় যে প্রকল্পে লুটপাট করা যায়। অনেকটা ক্ষোভ ও হতাশায় স্থানীয়দের অভিাযোগ, যেখানে বরাদ্দ প্রয়োজন সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আর যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দগুলো দেওয়ার সময় কোনো যাচাই-বাছাই করা হয় না।
আখিরাহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আখিরাহাট এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হলে শুনি চেয়ারম্যান করছে। কিন্তু পরে আবার শুনি সরকারি প্রকল্পের টাকায় কাজ হয়েছে। সমস্যা হলো কত টাকা বরাদ্দ পাবলিক জানলে লুটপাট হবে না। প্রকল্প এলাকায় বরাদ্দের পরিমাণসহ সাইনবোর্ড লাগানোর নিয়ম থাকলেও কোনো সাইনবোর্ড দেখি না। কারণ সাইনবোর্ড লাগালেই গোমর ফাঁস হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ইউপি গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে কাজ করেনি এ রকম কয়েকটি প্রকল্পে আছে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার আগে আমরা কাজগুলো মেজারমেন্ট করে টাকা দেব। যেসব প্রকল্পে কাজ করা হয়নি তাদের কাছ টাকা ফেরত নেওয়া হবে।
ইউএনও মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরূদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাবু/জেএম