
X
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালীতে দ্বীন মোহাম্মদ নামে এক ব্যবসায়ীর মাছের ঘের থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় তাকে সাজানো মামলায় অভিযুক্ত করা সহ নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের পুকুরদিয়া গ্রামের গোলন্দাজ বাড়ীর নিজেদের ঘরে স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের ডেকে নিয়ে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দ্বীন মোহাম্মদ ও তার পরিবারের লোকজন। ভুক্তভোগী দ্বীন মোহাম্মদ কুশাখালী ইউনিয়নের পুকুরদিয়া গ্রামের গোলন্দাজ বাড়ির আবুল বাসারের ছেলে। বালু উত্তোলনে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন, জসিম, মাইনুদ্দিন, রাজু, রাব্বি একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।
দ্বীন মোহাম্মদ ও তার স্বজনেরা জানায়, জোরপূর্বক বালু উত্তোলন ও ঘেরের মাছ মারার অভিযোগ এনে দ্বীন মোহাম্মদ বাদি হয়ে বালুখেকো স্থানীয় প্রভাবশালী আলাউদ্দিন ও তার কয়েক সহযোগীর বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেয়ার হুমকী দেয় আলাউদ্দিন ও সহযোগীরা। প্রতিশোধপরায়ন হয়ে একই দিন দ্বীন মোহাম্মদ ও তার ভাইসহ ৬ জনকে আসামী করে একই থানায় পাল্টা মামলা দায়ের করেন আলাউদ্দিন। এতে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয় দ্বীন মোহাম্মদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে।
আলাউদ্দিনের দায়ের করা সাজানো মামলার জের ধরে এদিন ভোররাতেই দ্বীন মোহাম্মদের ছোট ভাই মামলার ৩ নম্বর আসামী ওয়ারেসকে র্যাব-১১ এর সদস্যরা শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের পুকুরদিয়া গ্রামের গোলন্দাজ বাড়ী থেকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকের একদিন পর নির্মম নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করে তারা। শেষে ওয়ারেসকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে র্যাব নির্যাতনের বিষয় অস্বীকার করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র্যাব-১১ এর নোয়াখালীর কোম্পানী অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ওই আসামীকে আটক করে রাতেই চন্দ্রগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে তুচ্ছ এঘটনার মামলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১১ এর এ ধরনের অভিযান ও পরে আসামী নির্যাতনের ঘটনাকে অমানবিক বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় লোকজন জানায়, এলাকার মঞ্জুর হোসেন নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী প্রত্যক্ষ মদদে আলাউদ্দিন ও সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মঞ্জুর নির্দেশে এলাকায় মানুষের জমি জোর করে দখল করে রাখে। র্যাবের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের সাথে মঞ্জুর ঘনিষ্টতার সুযোগে মানুষকে হয়রানি করছে বলেও জানালেন অনেকেই। এর আগেও র্যাব লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পে দ্বীন মোহাম্মদকে ডেকে নিয়ে মঞ্জুর সাথে মিল দিয়ে চলার বিষয়ে পরামর্শ দেন বলে জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী দ্বীন মোহাম্মদ জানায়, তিনি স্থানীয় শামছুল হুদার কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। সম্প্রতি ওই মাছের ঘের থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মঞ্জুর নির্দেশে বালু উত্তোলন শুরু করে আলা উদ্দিনসহ কয়েকজন। এতে করে মাছের ঘেরে মাছ মারা যাওয়ায় তিনি বাধা দিলে তারা তাকে র্যাব-১১ সিইও কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা এ ব্যাবসায় অংশীদারিত্ব রয়েছে বলে হুমকি দেয়। এসময় তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে। পরে তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিন বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে আলা উদ্দিন চন্দ্রগঞ্জ থানায় দ্বীন মোহাম্মদ ও তার ভাইদেরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ভোররাতে সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা এসে তার ভাই ওয়ারেছকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে একদিন পর থানায় সোপর্দ করে।
দ্বীন মোহাম্মদের স্ত্রী ও ওই বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দা জানালেন, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন দ্বীন মোহাম্মদ ও তার পরিবার। শুক্রবার ভোররাতে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী (র্যাব) বাড়িতে এসে ঘুম থেকে সবাইকে উঠিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ওয়ারেছকে নিয়ে যায়। সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানায় যেতে বললেও থানায় ওই দিন ওয়ারেছের কোন খবর পাননি তারা।
এসব বিষয়ে জানার জন্য আলাউদ্দিন ও মঞ্জুর হোসেনের সাথে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামী ওয়ারেছকে আটকের পর রাতেই র্যাব থানায় হস্তান্তর করেছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তহিদুল ইসলাম জানান, র্যাব ওয়ারেছকে আটক করে থানায় দেয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
-বাবু/এ.এস