বাড়িতে মায়ের লাশ রেখে পরীক্ষার হলে মেয়ে

মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর

সারাবাংলা

মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন সাদিয়া আক্তার। সে

2023-05-03T18:45:57+00:00
2023-05-03T18:45:57+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
বাড়িতে মায়ের লাশ রেখে পরীক্ষার হলে মেয়ে
মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর
প্রকাশ: বুধবার, ৩ মে, ২০২৩, ৬:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ৩০৮)
X

মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিলেন সাদিয়া আক্তার। সে সলিমগঞ্জ আবদুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।

বুধবার (৩ মে) ভোরে তার মা জলি আক্তার (৩৭) ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। সাদিয়া আক্তার পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আকানগর গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের একমাত্র  মেয়ে। মধ্যনগর নানার বাড়িতে থেকে সলিমগঞ্জ আবদুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় এসে লেখাপড়া করে সাদিয়া।  

জানা যায়, জলি বেগম ভোর রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা যায়। তার লাশ বাড়িতে আসার পর বাড়ি জুড়ে শোকের ছায়া পড়ে , স্বজনেরা যখন মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মায়ের মৃত্যুর পর সাদিয়া ভেঙে পড়লেও স্বজনদের কথায় মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসে। পরীক্ষা শেষে সাদিয়া বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর আসর নামাজের পর, মধ্যনগর গ্রামে জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ  দাফন করা হয়।  

সকাল ১০টার আগে চোখ মুছতে মুছতে সাদিয়া আক্তার পরীক্ষার কেন্দ্রে আসেন। সহপাঠী ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় তৃতীয় দিনের  ইংরেজি প্রথম পত্র বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে । 
 
সলিমগঞ্জ আবদুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহাম্মদ আলী বলেন, মা হারানো  শিক্ষার্থী সাদিয়া খুবই মেধাবী। পরীক্ষার কক্ষে মাঝে মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা তাদের উৎসাহিত করেছেন। তবে মাঝেমধ্যে সে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষার খাতায় লিখতে দেখা গেছে। সাদিয়ার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা সকালেই জানতে পেরেছিলাম।  আমরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি। 

‘সাদিয়া আক্তার বলেন,‘মা আমাকে অনেক ভালোবাসতেন। চাইতেন আমি যেন পড়ালেখা করে অনেক বড় হই। তাই এমন অবস্থায়ও আমি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। মায়ের আত্মাকে আমি কষ্ট দিতে চাই না।’

এ বিষয়ে  উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিক বলেন, পরীক্ষার্থীর মায়ের মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক। তাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য কেন্দ্র সচিবকে বলা হয়েছে।

বাবু/জেএম 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy