প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩, ৫:১০ পিএম (ভিজিট : ২৮৯)

X
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। সেইসঙ্গে বাম্পার ফলন হওয়ায় কমেছে দাম। বিগত বছর গুলোতে ভুট্টার দাম ভাল পাওয়ায় এ বছরও এ উপজেলায় অধিকাংশ কৃষক ভুট্টা চাষ করেছেন। ভুট্টার ভাল আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষীরা। অনেক কৃষক সমিতি থেকে লোন তুলে ভুট্টা চাষ করেছে। ভাল ফলন পেলেও দেখছে না লাভের মুখ। কৃষকেরা বলছেন লাভ তো দূরের কথা, এখন লোন আর সুদের টাকা তারা পরিশোধ করতে দিশেহারা।
বিভিন্ন সময় মাঠে ফসলের লোকসানের পর ভুট্টা চাষে কিছু লাভের স্বপ্ন ছিল কৃষকের মনে। সেই ভুট্টাতেও তারা সঠিক দাম পাচ্ছেন না। গত বছর এ সময়ে শুকনা ভুট্টা ১২'শ ৫০ থেকে ১৩'শ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও এবছর চলতি মৌসুমি শুরুতে ভুট্টার দাম কমেছে মণ প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই কলোনী গ্রামের চাষি বাদশা মিয়া ৬ বিঘায় ভুট্টা চাষ করেছেন। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছেন। বর্তমান দরে ভুট্টা বিক্রি করলে লোকসান নেই, তবে মুনাফা হবে না। এজন্য সামান্য কিছু জমির ভুট্টা তোলা হলেও অন্যগুলো ফেলে রাখা হয়েছে দরবৃদ্ধির আশায়।
টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের চর খড়িবাড়ী গ্রামের কৃষক সমছের আলী ৪ বিঘায় ভুট্টা লাগিয়েছেন। গতবছর প্রতি মন সর্বোচ্চ ১ হাজার ২শত ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন হচ্ছে ৯৫০ টাকায়। তাই ক্ষেত থেকে ভুট্টা তুলতে সময় নিচ্ছেন।
বালাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দর খাতা গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক প্রায় ৩ বিঘা জমির মধ্যে ১ বিঘা জমির ভুট্টা তুলে ৯শত টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। সরকারিভাবে ভুট্টার দাম নির্ধারণ হয় না। তাই ভুট্টার ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সেকেন্দার আলী জানান এবার ডিমলা উপজেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ২শত ৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৩শত ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। কয়েক বছর ধরে ধান-আলু আবাদ বন্ধ রেখে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। কারণ অর্থকারী ফসল হিসেবে ভুট্টা দেশের পোল্ট্রি, মাছের খামার ও ডেইরি ফার্ম ও কৃষকের গবাদি পশুর খাবার হিসেবে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
-বাবু/এ.এস