প্রকাশ: শনিবার, ২০ মে, ২০২৩, ৯:৩১ এএম (ভিজিট : ৫৯৯)

X
শুধুমাত্র পরিবার প্রিয়জনকে একটু ভালো রাখার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান অনেকেই। দেশে কর্মসংস্থান না হওয়ায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে গিয়ে কেউ লাশ হয়ে ফিরতে চান না। অথচ ভাগ্যের নির্মমতায় মাঝ পথেই থমকে যায় অনেকের জীবন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম দরবেশের ছেলে মো. মেহেদী হাসান। বৃহস্পতিবার ভোরে সৌদি আবরের রিয়াদে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয় ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধার নাম।
সে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১৪ মাস আগে আত্মীয় স্বজনের সহযোগিতা আর ধার-দেনা করে মেহেদী সৌদি আরবে যায়। মো. রফিকুল ইসলাম দরবেশের তিন ছেলের মধ্যে সে সবার বড়। একদিকে প্রবাসে পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলেটির অকাল মৃত্যু অপরদিকে মাথার উপর ঋণের বোঝা। এসব চিন্তায় যেন চোখের পানিও শুকিয়ে গিয়ে এক প্রকার বাকরুদ্ধ পরিবারের মানুষগুলো। তার এই অসময়ে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না তার পিতা মাতা ভাই আর আত্মীয় স্বজনরা। মেহেদীর মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মেহেদীর চাচা আব্দুস সালাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মেহেদীর এক বন্ধু শুক্রবার সকালে মোবাইল ফোনে মৃত্যুর খবর দেন। বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে প্রাথমিকভাবে খবরটি এই ভাবে আমাদের কাছে পৌঁছানো হয়। অন্য কোন কারণ আছে কিনা এ বিষয়টি আমরা এখনো পরিস্কার নয়। শুনেছি সেদেশের পুলিশ এসেছে, খোঁজ খবর নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বাবাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তার একটি কথা ছিল টাকা পয়সার জন্য কোন যেন চিন্তা না করে। বাড়ির কাজ কী ভাবে করা যায় তার বাবার সাথে এই বিষয়ে কথা বলে পরামর্শ করেন। তাছাড়া ছোট ভাইদেরকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে চিন্তা তার সব সময় কাজ করতো। ফোনে বাড়ি ঘরের সবার খোঁজ খবর রাখতো। সে এভাবে চলে যাবে তা কখনো ভাবতে পারি না।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, মেহেদী খুবই ভালো ছেলে ছিল। ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো বড় হওয়ার। সৌদিতে ভালো কোম্পানিতে কাজ পেয়ে তার অবস্থা পরিবর্তন দেখে খুবই ভালো লাগছিল। এভাবে চলে যাবে তা কখনো ভাবতে পারি নাই।
বাবু/জেএম