
X
নেত্রকোনা জেলা শহরে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে লেগেছে আগুন। সম্প্রতি নেত্রকোনায় তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাগলা ঘোড়ার মতো লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে এসব পণ্য সামগ্রীর দাম। সংসারের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সমাজের মধ্যবিত্তসহ কর্মহীন সাধারণ মানুষ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।
শনিবার (২০ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন দোকান ও হাট-বাজার গুলোতে ‘গরিবের প্রোটিন’ হিসেবে পরিচিত মুরগির ডিমের দাম খুচরা ও পাইকারি বাজারে হালিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ৪০ টাকা হলে ও হাঁসের ডিমের দাম হালিতে ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও গত দুই সপ্তাহ আগে খোলা বাজারে স্বর্ণা-৫ চাল কেজিপ্রতি ৫২ থেকে বেড়ে এখন ৫৫ টাকা, কাটারি ভোগ ৬২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা, জিরা ৫৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা, ৫ কেজি মুড়ির ব্যাগ ২৯০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২০ টাকা, জিরা মসল্লা ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি, চিনি ৮০ টাকা থেকে এখন ৯০ টাকা, লুডুলস ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা।
অন্যদিকে বাজারে অধিকাংশ মুদির দোকানে সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট ‘সৃষ্টি’ করা হয়েছে। অধিকাংশ দোকানের র্যাকগুলো ফাঁকা। তীর ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের দু-এক লিটারের তেল অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও পাওয়া যাচ্ছে না রূপচাঁদা ও বসুন্ধরাসহ অন্য কোনও কোম্পানির তেল।
স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সয়াবিন তেলের দাম বাড়বে এমন গুঞ্জনে পাইকারি বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন দামে তেল পাওয়া যাবে। তাই ডিলাররাও কোনও তেল দিচ্ছে না।
সম্প্রতি পেট্রোলের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সবজি ও কাঁচা বাজারেও লেগেছে তার ঝাঁজ। শুকনা মরিচ ২৮০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪৫০ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০, শসা ৩০ থেকে ৭০ টাকা, ‘কচুরবই’ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আকার ভেদে লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা।
বাজারে মুরগির মাংসেও লেগেছে আগুন। পোল্ট্রি মুরগি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২২০ টাকা, দেশি মুরগির ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, পাকিস্তানি কক মুরগির দাম ২৬০ থেকে ৩১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে কাঁচা মরিচের দাম ২৫০ থেকে কমে প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পটল ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, করলা ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ১১০ থেকে ১০০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ ও দেশি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আদা ১২০ টাকা; যা আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নেত্রকোনা শহরের স্থানীয় ভ্যান চালক ইউনুস আলী বলেন, পরিবারের জন্য মাছ-মাংস কিনতে পারি না। বাজারে এক হালি মুরগির ডিম কিনতে গিয়ে দাম বেশি হওয়ায় দুইটি ডিম কিনেছি।
অপর ক্রেতা ইলিয়াস হেমরম জানান, বাজারের অধিকাংশ মুদি ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য সয়াবিন তেল স্টক করে রাখায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটছে।
শহরের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী দেলুয়ার হোসেন দাবি করেন, তারা কোনও তেল স্টক করে রাখেননি। পাইকারি বাজারে সকল পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাস্টমারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মুদি ব্যবসায়ী হুমায়ূন জানান, একদিকে মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছে।
শহরের রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের ডিলার বলেন, বাজারে রূপচাঁদা তেলের কোনও সংকট নেই। দাম বাড়ার কথা শুনে কিছু ব্যবসায়ী স্টক করে রাখায় রূপচাঁদা তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওসমান গনি জানান, তাদের লোকবল কম থাকায় উপজেলা পর্যায়ে মাসে একবার অভিযান পরিচালনা করতে হয়। অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে রাখছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, এমন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, আমাদের জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সব সময় মাঠে আছেন এবং তারা নিয়মিত জেলার প্রতিটি বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছেন, তারপরেও যদি কেউ সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে তাহলে প্রমাণস্বরূপ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাবু/জেএম