প্রকাশ: রোববার, ২১ মে, ২০২৩, ৯:৪৭ এএম (ভিজিট : ২৮১)

X
জীবিকার সন্ধানে প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসে পাড়ি জমান। যারা বিদেশে যান তাদের বেশিরভাগই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন। একটু আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ও দেশে অবস্থানরত বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাতে তারা কঠোর পরিশ্রম করতে কোন দ্বিধাবোধ করেন না।
কেউ দু-চার বছর পর ছুটিতে দেশে ফিরে আসেন। কিছুদিন সবার সঙ্গে কাটিয়ে আবার ফিরে যেতে হয় প্রবাসে। আবার কারও কারও ভাগ্যে দেশে আর জীবিত ফিরে আসা সম্ভব হয় না। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় কিংবা জটিল রোগে ভোগে মৃত্যুবরণ করেন। তেমনি ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হয়ে প্রবাসে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীর বাজারের ব্যবসায়ী ও সাহেব নগর গ্রামের আবু জাহের ভূঁইয়ার ছেলে মুবাশ্বির হোসেন ভুঁইয়া। গত মাসে সৌদি আরবের জেদ্দায় নিজ বাসায় স্ট্রোক করে মারা যায় সে। মৃত্যুর ২৬ দিনপর তার মরদেহ দেশে পৌঁছলে শনিবার (২০ মে) রাতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত মুবাশ্বিরের মরদেহ শনিবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল অন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছলে দুপুর ২টায় ছোট ভাই মোকাদ্দেস হোসেন ভুঁইয়াকে বুঝিয়ে দেন। সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে বাদ এশা সাহেব নগর মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত মুবাশ্বির হোসেন ভূঁইয়ার ছোট ভাই আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসেন ভুঁইয়া জানান গত ৪ বছর আগে পরিবারের সুখের আশায় সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিল মুবাশ্বির হোসেন ভূঁইয়া। এরই মধ্যে গত ৬ মাস আগে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে আবার প্রবাসে চলে যান। গত দেড় মাস আগে কোম্পানিতে ছুটি চাইলে ঈদের পর দেশে আসার জন্য ভাইকে ছুটি দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী দেশে আসার সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আমার ভাই দেশে এসেছে তবে লাশ হয়ে।
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম ভুঁইয়া লিটন বলেন, মুবাশ্বির হোসেন ভুঁইয়া খুবই ভালো ছেলে ছিল। এভাবে চলে যাবে তা ভাবতে পারি না। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
বাবু/জেএম