প্রকাশ: শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩, ৪:৩৭ পিএম (ভিজিট : ৩২২)

X
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন শুলকবহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ কেজী ওজনের একাধিক হাতির দাঁত ও একটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করেছেন র্যাব-৭। এসময় এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ মে) রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুলকবহর এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম। আটককৃত মোঃ আব্দুল মালেক (৬৮) মৌলভিবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দীতেস্বর এলাকার মৃত হাজী আব্দুল আলীর ছেলে। উদ্ধারকৃত হাতির দাঁত ও হরিণের চামড়ার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা।
র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সিনিঃ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল হতে পারমিট ব্যতিত বন্যপ্রাণী (হাতির দাঁত ও হরিণের চামড়া) বিভিন্ন অংশ বিশেষ সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উচ্চমূল্যে বিক্রয় করে আসছে।
আটককৃত আসামি আব্দুল মালেক মূলত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তিনি ১৯৭৬ সন থেকে তার বাবার সাথে রাঙ্গামাটি জেলার বাগাইছড়ি এলাকায় হাতি দেখভাল করার জন্য আসেন। তার বাবার কয়েকটি হাতি ছিল। ১৯৯৮ সালে তার বাবা মারা গেলে হাতির ব্যবসা দেখভাল করার জন্য তিনি ছয় বছর যাবত রাঙ্গামাটি জেলার বাগাইছড়ি থানার মরিশ্যা এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি একজন লাইসেন্সধারী হাতির পালক। ২০১০ সালের পরে লাইসেন্স প্রভিশন হলে তিনি পুনরায় লাইসেন্স করেন। তবে তিনি স্থায়ীভাবে তখন বাঘাইছড়ি থাকতেন না। ২/৪ দিন অস্থায়ী ভাবে থেকে আবার মৌলভীবাজার চলে যেতেন। তার বৈধভাবে ছোট বড় ১২ টি হাতি আছে। তবে স্থানীয় তথ্যানুযায়ী তার আরো ২৪/২৫টি রেজিষ্ট্রেশনবিহীন হাতি রয়েছে যেগুলো তিনি বিয়ে বাড়িতে ভাড়াসহ পাহাড়ি এলাকায় গাছ টানার কাজ করেন। পাহাড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি বন্যপ্রানীর চামড়া, হাতির দাত সংগ্রহ করে অবৈধভাবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে সংরক্ষণ করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন আটক আব্দুল মালেক।
গ্রেফতারকৃত আসাাম ও উদ্ধারকৃত মালামাল সহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-৭ সূত্র জানিয়েছেন।