প্রকাশ: রোববার, ২৮ মে, ২০২৩, ৬:৫৪ পিএম আপডেট: ২৮.০৫.২০২৩ ৭:০৬ পিএম (ভিজিট : ১০২৬)

X
কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময় কাটাতে সখে গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন সবুজ এক সবজির বাগান। পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে বিষমুক্ত বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি। ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। পতিত জমির সদ্ব্যবহার ও সবুজ শ্যামল মনোরম পরিবেশ তৈরি করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন ব্রাহ্মাণবাড়িয়া আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের গনিত বিভাগের প্রভাষক মো. জসিম উদ্দিন।
গত ৮-৯ মাস আগে পৌর শহরের কলেজ পাড়ায় ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি। সে জমির চারদিকে দিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে তিনি চিন্তা করেন জায়গাটি ফাঁকা না রেখে কিছু করা যায় কি না। সে চিন্তা থেকেই গড়ে তুলেন সবজির বাগান।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবজি চাষ ও বাগান পরিচর্যা করে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।
রোববার সকালে প্রভাষকের সবজি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডালে দুলছে সাদা ডিম আকৃতির বেগুন, পুইশাক, মিষ্টি কুমড়া। আর মাচাতে ঝুলছে ডগাই ডগাই কচি লাউ। আরও ঝুলছে সবুজ করলা, ঝালি কুমড়া। অন্য দিকে লেবু গাছে রয়েছে থুকায় থুকায় লেবু। এ যেন এক সবুজের সমাহার দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। কোন প্রকার কীটনাশক ছাড়া শুধু মাত্র জৈবসার ব্যবহার করে এমন সুন্দর সবজি উৎপাদন করে সহকর্মী ও প্রতিবেশীদের অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রভাষক মো. জসিম উদ্দিন।
শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ফয়জুন্নেছা লিজা বলেন, আমিসহ আমাদের সহকর্মীরা প্রায় সবাই জসিম স্যারের সবজি বাগান দেখতে গিয়েছি। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন সুন্দর একটা সবজি বাগান গড়ে তুলেছেন যা দেখে আমার অত্যান্ত আনন্দিত হয়েছি। ছোট বেলা থেকে আমারও বাগানের প্রতি একটা আগ্রহ ছিল। স্যারের বাগান দেখে আমার আগ্রহটা আরও বেড়ে গেলো। উনার বাগানের লাউ খেয়েছি লাউটা খুব সুস্বাদু।
প্রতিবেশী মো. হেলাল মিয়া বলেন জসিম স্যার কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি এমন দৃষ্টিনন্দন সবজি বাগান করেছে যা দেখে খুব ভালো লাগছে। উনার বাগানের লাউ এবং করলা খেয়েছি। সবজিগুলো খুব সুস্বাদু।
সবজি বাগান নিয়ে প্রভাষক জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা যেখানে পতিত জমি সেখানেই চাষাবাদ, এই শ্লোগানকে মনে রেখে আমি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের চেষ্টা করছি। আমার ৫ শতাংশ অনাবাদি জায়গার মধ্যে গড়ে তুলেছি এই সবজির বাগান। এ বাগান থেকে আমাদের স্বামী-স্ত্রী দুইজনের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে শতাধিক লাউ সহকর্মী, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনদের মাঝে উপহার হিসেবে বিতরণ করেছি। কোন প্রকার সার ও কিটনাশক ব্যবহার না করে শুধু মাত্র জৈব সার ব্যবহার করে এই সবজি আবাদ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পর যতটুকু সময় পাই এ সময়টুকু বাগান পরিচর্যায় ব্যয় করি। এতে করে স্বাস্থ্য এবং মন দুটোই ভালো থাকে। আমি আশাকরি আমার এমন উদ্যোগ দেখে অনেকেই যেন এমন শখের সবজির বাগান গড়ে তুলে, এতে করে দেশের খাদ্য ঘাটতির কমানোর সাথে নিরাপদ খাদ্য পাবে মানুষ।
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাহানা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিমার ২৫ দফা অনুশাসন রয়েছে, এই অনুশাসনের প্রথম অনুশাসন হল ১ ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না। এই নিদর্শনা মোতাবেক কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় সারা বাংলাদেশে কাজ শুরু করেন। সেই সাথে আমরা উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি যেন এক ইঞ্চি জমিও খালি না থাকে। আখাউড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে যে সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন তা প্রশংসনীয় একটি কাজ। উনার মত একজন শিক্ষক প্যান্ট-শার্ট পরা লোক যদি কৃষি কাজে এগিয়ে আসে তাহলে উনাকে দেখে অন্যারা এগিয়ে আসবে কৃষি কাজে।
বাবু/জেএম