প্রকাশ: রোববার, ২৮ মে, ২০২৩, ৭:০২ পিএম (ভিজিট : ২৩৪)

X
হাসপাতালে জরুরী বিভাগের ডিউটি রেখে বাহিরে চেম্বারে রোগী দেখছেন সোহেল রানা নামের এক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। সরেজমিনে এমন অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। অভিযুক্ত সোহেল রানা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার।
গত শনিবার (২৭ মে) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জরুরী বিভাগে ডিউটি ছিলো উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সোহেল রানার। কিন্তু তিনি ২টায় হাসপাতালের ডিউটি রেজিষ্ট্রারে স্বাক্ষর করেই ডিউটি ফাঁকি দিয়ে চলে যান পৌর এলাকার কলেজ রোডে অবস্থিত ফয়সাল মেডিসিন কর্ণারে নিজস্ব চেম্বারে। ওই সময় সরেজমিন গিয়ে তাকে ওই চেম্বারে জিসান (৪ মাস) নামে এক শিশু রোগীর প্রেসক্রিপশন করতে দেখা যায়। প্রেসক্রিপশনে তার নামের আগে ডা. মো. সোহেল রানা এমনকি তিনি মেডিসিন, চর্ম, যৌন, মা ও শিশু এবং মানসিক রোগের বিশেষ অভিজ্ঞ বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে আমার ডিউটি দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। কিন্তু ডিউটির এক ফাঁকে দুধ কিনতে বাজারে গিয়েছিলাম। এমন সময় একজন গরিব রোগী আমাকে অনুরোধ করেন তার শিশু রোগীটাকে দেখতে। তাই আমি ওই চেম্বারে বসে প্রেসক্রিপশন করে দেই।
এদিকে ওই শিশু রোগী জিসানের মা রোজিনা আক্তার জানান, আমি ২০০ টাকা ভিজিট দিয়ে আমার অসুস্থ্য বাচ্চাকে সোহেল ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়েছি। তিনি ছেলেকে দেখে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে চাকরি করে আসছেন সোহেল রানা। স্বীকৃত চিকিৎসকদের সহযোগী হিসেবে কাজ করাই তার দায়িত্ব হলেও তিনি সরকারি বিধি ভঙ্গ করে নামের আগে ডা. লিখে নিজ প্যাডে দিচ্ছেন রোগীদের ব্যবস্থাপত্র। শুধু উনিই নয়, ওই হাসপাতালের একাধিকের বিরুদ্ধে ডা. লিখে নিজ প্যাডে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল এ্যাক্ট-২০১০ এর ২৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, নূন্যতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রীধারী ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি কোন ব্যক্তি এই বিধি লঙ্ঘন করেন তাহলে তা একটি অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির ৩ (তিন) বছর কারাদণ্ড বা ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লোপা চৌধুরী বলেন, ডিউটি চলমান অবস্থায় বাহিরে চেম্বার করার কোন নিয়ম নেই। যদি করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিষয়টা খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা দেখবো।
বাবু/জেএম