
X
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য গৃহীত ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি (ইজিপিপি) সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মহীনদের কর্মসংস্থান সৃস্টির পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে বড় ভুমিকা রাখছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে একদিকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অতিদরিদ্ররা অভাব -অনটনের সময় কাজ পাচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কাঁচা রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার হচ্ছে। এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ।
জানাগেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের দুটি প্রকল্প রয়েছে, যেখানে ৪০/৫০ বছরে কোনো উন্নয়ন কাজ (মাটির) পৌচ্ছেনি। এদিকে দীর্ঘদিন পরে এসব গ্রমাঞ্চলের রাস্তা-ঘাটের দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়নে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গুলিশাখালী ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে (৪০ দিনের কর্মসূচি) ইজিপিপি প্রকল্প স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তত্ত্ববধানে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় (পিআইও)। প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গুলিশাখালী ইউনিয়নে ২টি প্রকল্পে মোট ১৩৯ জন শ্রমিক কাজ করেছেন। দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরি ও প্রত্যেক দলের নেতাকে আরও ৫০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গুলিশাখালী মোশারেফ মিয়ার বাড়ি হইতে জালাল পাহলানের বাড়ি হয়ে রবি জালো এর বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণে ৫০ জন শ্রমিক ও হরিদ্রাবাড়ীয়া গ্রামের গনি হাং এর বাড়ি হইতে খালেক হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা পুন:নির্মাণ প্রকল্পে ৮৯ জন শ্রমিক সংস্কারের কাজ করছেন।
গুলিশাখালী ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্ধা শ্রমিক জামাল রাঢ়ী বলেন, ‘আমরা দৈনিক ৮৯ জন শ্রমিক ৪০০ টাকা করে মোবাইল সিমে ৪০ দিন পেয়েছি। শ্রমিক মো. আব্বাস বলেন, ‘গত বছর এই খানে কোন রাস্তা ছিলো না। এ বছর চেয়ারম্যান মোগো রাস্তা দেছে। এহন মোগো পোলা মাইয়াগো স্কুলে যেতে কম সময় লাগবে। গুলিশাখালী ইউপির ১নং ওযার্ডের বাসিন্দা শ্রমিক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ৫০ জন শ্রমিক ৪০ দিন মোবাইল পোনে ৪০০ করে টাকা পেয়েছি।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় গ্রামীণ মানুষের অনেক উপকার হবে। এখন বাজারে পণ্যদ্রব্য নিয়ে যাওয়ার কোনো কষ্ট হবে না বলে জানান, অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব মো. মোসলেম উদ্দিন।
হরিদ্রাবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক প্রধান শিক্ষক গাজী আব্দুর রহমান বলেন, ৩০/৩৫ বছর ধরে আমরা খালের পাড় ঝাড় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হরিদ্রা বাড়িয়া ও কলাগাছিয়ার ৫শত পরিবারের শিশু বৃদ্ধা স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা কলাগাছিয়া বাজার যাওয়া আসা করতাম। তখন কোন রাস্তা ছিলো না। এবছর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড: এইচ এম মনিরুল ইসলাম মনি হরিদ্রাবাড়ীয়া গ্রামের গনি হাওলাদারের বাড়ি হইতে খালেক হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা নির্মাণ করে দেওয়ায়, এখন বুড়া বয়সে কলাগাছিয়া বাজারে নাতিপুতি নিয়া যাইতে পারবো।
প্রকল্প সভাপতি ও ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য মো. মাসুদ বলেন,‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর ৩নং ওয়ার্ডের এ রাস্তাটিকে গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছি।প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নে অঙ্গীকার মোতাবেক স্বচ্ছভাবে কাজ করিয়েছি।
গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড: এইচ এম মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কোনোভাবে দুর্নীতি করার সুযোগ নাই।’সরকারি বিধান মোতাবেক সম্পুর্ণ কাজ (ইজিপিপি) প্রকল্পের নীতিমালা অনুসারে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন বলেন, ‘প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তাবয়নের জন্য নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে।
বাবু/জেএম