বারহাট্টায় ৬৫ বছর বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাপন

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা

সারাবাংলা

‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও, বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার

2023-05-28T20:14:59+00:00
2023-05-28T20:14:59+00:00
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬ ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার ৭ আগস্ট ২০২৬
   
বারহাট্টায় ৬৫ বছর বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাপন
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা
প্রকাশ: রোববার, ২৮ মে, ২০২৩, ৮:১৪ পিএম   (ভিজিট : ২৩৯)
X

‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও, বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের ‘আসমানী’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব জীবনে নেত্রকোনার বারহাট্টায় বাঁশঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা ৬৫ বছর বয়সী স্বামী পরিত্যক্তা ও নিঃসন্তান লক্ষ্মী রাণীর জীবনের সাথে মিলে গেছে।

জেলার বারহাট্টা সদর উপজেলাধীন গুহিয়ালা গ্রামের বাঁশঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সহায়সম্বলহীন লক্ষ্মী রাণী।

লক্ষ্মী রাণীর সাথে কথা বলতে গেলে, তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরিস্থিতির কাছে আমি পরাজিত, জীবনে বেঁচে থাকা আমার কাছে শুধুই যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই না। এখন শুধু ভগবানের কাছে একটাই প্রার্থনা করি তাড়াতাড়ি যেন আমার মৃত্যু হয়। মৃত্যুই আমার একমাত্র মুক্তির পথ।

তিনি আরও বলেন, ৩০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা হবার পর আমার একূল আর অকূলে আপনজন বলতে কেউ নেই। তাই অপারক হয়ে বাঁশ ঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে অনিশ্চয়তায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্টে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাইতেছি।

প্রতিবেশী ছালমা বেগম বলেন, জঙ্গলের ভেতরে এখন যে ঘরে এই বৃদ্ধা বাস করছেন সেখানে খাবার তো দূরের কথা, পানযোগ্য পানি পর্যন্ত নেই। ভাঙ্গা পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিই তার ভরসা। মানুষের বাড়িতে চেয়ে একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা না খেয়ে দিন কাটে তার। অসুস্থ হলেও খোঁজ নেবার কেউ নেই। প্রতিনিয়তই তিনি, কষ্ট-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শুধুই মৃত্যু কামনা করেন।

এলাকাবাসী জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এবং নিঃসন্তান। তাই তার এই বয়সে সেবা করার মত কেউ নেই।

এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন, এই দুঃখিনী বৃদ্ধা ভূমিহীন হওয়ার পরও তার ভাগ্যে একটি থাকার মতো ঘর জুটেনি। বারহাট্টার বিত্তশালী কিংবা প্রশাসন থেকেও কেউ তার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।

এলাকাবাসী, বারহাট্টা উপজেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ যেন লক্ষ্মী রাণী’কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সরূপ দেওয়া একটি সরকারি ঘরের ব্যবস্থা এবং দু’বেলা দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জোর দাবি জানান।

বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক কাসেম বলেন, বিষয়টি আমার নেই, আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি, আমাদের পক্ষ থেকে লক্ষী রানীর জন্য সবোর্চ্চ সহযোগিতা থাকবে।

এই দুঃখিনী লক্ষ্মী রাণীর বিষয়ে জানতে চেয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এসএম মাজহারুল ইসলামের কাছে ফোন করলে তিনি বলেন, লক্ষী রানীর বিষয়ে আমার জানা নেই, তবে খবর নিয়ে দেখছি, আমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য সবোর্চ্চ সহযোগিতা থাকবে।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy