
X
নীলফামারীর ডোমারে গোপনে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ও চাকরি আবেদন প্রার্থীরা প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিয়োগ বোর্ড এর প্রতিনিধি, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দ্রুত নিয়োগ পরীক্ষাস্থল ত্যাগ করেন। পরে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের নোটিশ দিয়ে ছাড়া পায় ওই প্রধান শিক্ষক।
অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষকের নাম দিনেশ চন্দ্র রায়। তিনি উপজেলার বড় রাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। ইতিপূর্বেও উক্ত নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থ লেনদেন করার অভিযোগে চাকরি প্রার্থীদের প্রতিরোধে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ও ওই প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ হলে, পুলিশ হেফাজতে ঘটনাস্থল হতে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (৫জুন) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় রাউতা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, নিরাপত্তা কর্মী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আমরা জানি না। উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি আলহাজ্ব মনছুরুল ইসলাম দানু, প্রধান শিক্ষক দিনেশ চন্দ্র রায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে মিটিং করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়ে ও নিয়োগ কমিটি তৈরি করে। কোন মিটিং কিংবা রেজুলেশন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন গোপনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পায়তারা করছে।
ম্যানেজিং কমিটির আরেক সদস্য মো. জাকারিয়া বলেন, ইতিপূর্বেও অনিয়মের কারণে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ হয়েছিল। সেসময় ওই বিদ্যালয়ের জমিদাতা সদস্য ও চাকরি প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম, ইউএনও, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সব কিছুতেই তোয়াক্কা না করে আবারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছেড়ে গোপনে পছন্দনীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে একটি নোটিশ প্রদান করেন।
চাকরি পরীক্ষার্থী শাকিল ইসলাম জানান, গত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আমি নৈশ্য প্রহরী পদে আবেদন করি। পরে জানতে পারি সেই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আমি প্রধান শিক্ষক দিনেশ চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরবর্তীতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু আজ জানতে পারলাম নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু এবারের বিজ্ঞপ্তির কথা জানতেই পারিনি।
প্রধান শিক্ষক দিনেশ চন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতিকালে জাহিদুল ইসলাম ও তার দুই ছেলের হট্টগোলের কারণে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ নষ্ট হয়। এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির দুই সদস্যের অভিযোগের বিষয়ে জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতির বাসায় তাদের নিয়ে নিয়োগ বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি অবগত আছেন।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাকেরিনা বেগম বলেন, অফিস রুমে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত বিজ্ঞপ্তির একটি পদ স্থগিত রেখে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার সময় পূর্বের আবেদনকারী পরীক্ষার্থীরা জানতে পেরে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে হট্টগোল শুরু করে। পরে পরীক্ষা নেয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বাবু/জেএম