
X
আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। হাতে সময় খুবই অল্প তাইতো বেশ জোরেশোরেই প্রচার চালাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রচারে ভোটারদের দিচ্ছেন উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি। তবে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী নারিকেল গাছ মার্কার মাসেদুল হক রাশেদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীকে দুষছেন। ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।
নির্বাচনী মাঠে বাধা ও প্রচারে নারী কর্মীদের হয়রানির বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ এর ছোট ভাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুল হক মার্শাল বলেন, এখানে সুষ্ঠু ভোট দেন। সুষ্ঠু ভোট দিলে দেখবেন মাহাবুবুর রহমান কেমন সেবা কাউন্সিলর হিসেবে দিয়েছিল। কত বড় নাটকবাজ। রোহিঙ্গাদের ভোটারের দায়ে ২০০৮ সালে জেল পর্যন্ত খেটেছে৷ কত মানুষের ক্ষতি করেছে কক্সবাজার পৌরসভায়, সেটা প্রামাণ হবে।
মঙ্গলবার (৬ জুন) পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান চোধুরী। সমিতি পাড়া এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ অসংখ্য নেতা কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী বিশাল পথসভা করেন মাহাবুবুর রহমান চোধুরী। এরপর কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।
পথসভাও গণসংযোগে মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ এবং তার ভাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুল হক মার্শাল যে নাটকীয় কথাবার্তা বলছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা কারো প্রচারে বাধা দেই না। এমনকি নৌকার কোনো ব্যক্তি এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে না। তারা প্রতিনিয়তই মানুষকে মিথ্যা দোষারোপ করে আসছেন।
মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় আমার প্রচুর পোষ্টার ব্যানার দিয়েছিল সমর্থকরা। কিন্তু আমার বেশিরভাগ পোষ্টার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা ছিড়ে ফেলেছে। এইটার জন্য আমি প্রশাসনের কাছে অবগত করছি।
নৌকা প্রার্থী বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোক দাবি করে এবং পিতার কথা বলে হোটেল দখল থেকে শুরু করে মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন। এসব অবৈধ অর্থ উপার্জন এবং দখলবাজের বিষয়ে প্রশাসন অবগত আছেন। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন সুন্দরভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব মিথ্যাচারের জবাব কক্সবাজার পৌরবাসী আগামী ১২ জুন ভোটের মাধ্যমে দেবে ইনশাআল্লাহ৷ কক্সবাজার পৌরবাসী এক ও অভিন্ন হয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার দিনভর কক্সবাজার পৌরসভার মোহাজের পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার গণসংযোগ করেন স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মাসেদুল হক (রাশেদ)। দিনের শুরুতেই বাহারছড়া এলাকায় এরপর শহরের প্রধান সড়ক, মোহাজের পাড়া এলাকায়। এদিকে ভোটাররা বলছেন, নাগরিক সমস্যা যে নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা মনে করে সমাধান করবেন এমন ব্যক্তিকেই আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে চাই।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সমান অধিকার রয়েছে। যদি কোথাও পোষ্টার ছিড়ে ফেলা বা কর্মীদের প্রচারে বাধা ও হয়রানির ঘটনা ঘটলে, আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব।
রিটার্নিং কর্মকতা বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের যে সকল অভিযোগ পাচ্ছি কাল বিলম্ব না করে পুলিশ সুপার বরাবরে পাঠিয়ে দিচ্ছি। যেন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বাবু/জেএম