প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০২৩, ৮:৫১ পিএম (ভিজিট : ২০৮)

X
জামালপুরে বকশীগঞ্জে নির্ভিক সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের প্রথম নামাজে জানাযা শুক্রবার সকাল ১০টায় স্থানীয় নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে বকশীগঞ্জের গোমের চর গ্রামে। পওে গোমেরচর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে নাদিমকে দাফন করা হয়েছে।
তার জানাযা নামাজে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-প্রেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় পরিবারের লোকজনসহ উপস্থিত সবাই সাংবাদিক নাদিমের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবি জানান। জানাযা নামাজে বকশীগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
এর আগে সাংবাদিক নাদিমের মরদেহে শ্রদ্ধা জানায় জামালপুর প্রেসক্লাব ও জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যসোসিয়েশন। একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি ও বাংলা নিউজের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বৃহস্পতিবার রাতে নির্ভিক এই সাংবাদিকের মৃতদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বকশীগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারসহ গ্রামজুড়েই আহাজারি শুরু হয়।
গত বুধবার রাত ১০টায় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে ফেরার সময় বকশীগঞ্জ পাটহাটি (পাটের হাট) এলাকায় ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে ও মাথায় ইট দিয়ে থেথলিয়ে মৃত ভেবে ফেলে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক এবং পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাতেই তাকে ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটায় মারা যান। সাংবাদিক নাদিমকে নির্মমভাবে হত্যার খবরে সাংবাদিকদের পরিবারসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমেছে।
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীবাহিনী সাংবাদিক নাদিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নেতৃত্বে তার বড় ছেলে সোহানসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী নাদিমকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে তার দাবি জানান।
হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে জামালপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা। জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা বলেন, নাদিমের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের শোক পালন করছে জামালপুর প্রেসক্লাব। হত্যাকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত জামালপুর প্রেসক্লাব আন্দোলন চালিয়ে যাবে। নাদিমের দাফন শেষ করে সাংবাদিকরা বকশীগঞ্জ থানার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে। ঘটনার পর থেকে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু পলাতক রয়েছে।
বকশীগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের মধ্যে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যা মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে।
বাবু/জেএম