
X
সীতাকুণ্ড উপজেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে মহাসড়কে রোড ডাকাতি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা। বিশেষ করে চক্রটি স্বর্ণের দোকানে এসব ঘটনা ঘটছে। উপজেলার ভাটিয়ারীতে নারী যাত্রীদের স্বর্ণ ছিনতাইকালে সাতজন নারী ছিনতাইকারীকে আটক করেছে জনতা। পরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সোমবার (১৯ জুন) সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারী বাসস্টপেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার ভাটিয়ারী বাসস্টপেজ এলাকায় ঢাকাগামী বাসে যাত্রীরা ওঠে বসেন। এ সময় সাতজন নারী ছিনতাইকারীও ওই বাসে ওঠে। বাসটি কিছুদূর যাওয়ার পর কয়েকজন নারীর ব্যাগ থেকে স্বর্ণ চুরি করে চক্রটি।
এ সময় এক ভদ্র মহিলা বুঝতে পারেন তার ব্যাগ থেকে তারা স্বর্ণ নিয়ে যাচ্ছে। তিনি চিৎকার করলে বাসের অন্য যাত্রীরা ছুটে আসেন তার কাছে। পরে হাতেনাতে ছিনতাইকারী চক্রের ৭ সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ফেলে জনতা। এরপর ছিনতাইকারীদের প্রথমে বাস কাউন্টারে দাঁড় করিয়ে রাখে পরে চেয়ারম্যানের জিম্মায় চৌকিদার এসে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।।
অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড পৌরসদর বাজারে সোমবার (১৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে আজিজ শপিং কমপ্লেক্সের নিচে শান্তা জুয়েলার্সে নামে একটি স্বর্ণের দোকানে এক জোড়া নকল স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিতে এসে ধরা পড়েছে দুই নারী প্রতারক। পৌরসদর বাজারে কয়েকটি স্বর্ণের দোকানে এই চক্রের সদস্যরা রুপার জিনিষ নিকেল করে সোনার দোকানে বন্ধক অথবা বিক্রির করতে আসে বলে জানান স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।
আটককৃত দুই নারীর মধ্যে কুলসুমের বাড়ি ভোলা ও অপরজন নাসিমা বাড়ি লোহাগড়া বলে জানান ওই দুই প্রতারক নারী। তবে তারা বর্তমানে সীতাকুণ্ড পৌরসদর চৌধুরী পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
পরে তাদের আটক করে জুয়েলার্স সমিতিকে জানায় শান্তা জুয়েলার্সের মালিক। পরে সমিতির নেতৃবৃন্দ পৌরসদর বাজার কমিটির অফিসে নিয়ে দুই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় ব্যবসায়ী নেতারা ওই দুই নারীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। দুই মহিলার কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের পুলিশের কাছে দেওয়ার কথা সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্ত শান্তা জুয়েলার্সের মালিক এ বিষয়ে অপারগতা দেখালে পরে ওই দুই নারীকে মুছলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন।
এ বিষয়ে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, ভাটিয়ারী বাসস্টপেজে এলাকায় ৭ নারী ছিনতাইকারীকে আটক করেছে জনতা। তাদের বিভিন্ন অভিযোগে জনতা ধরে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। পরে আমি সীতাকুণ্ড মডেল থানায় খবর দিলে সকাল ১১টার দিকে ছিনতাইকারীদের মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরও বলেন, গত শুক্রবার (৯ জুন) ভাটিয়ারীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় অনেকে ইতিমধ্যে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন হারিয়েছেন তাদের ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে এসে তাদের শনাক্ত করতে এবং মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য অনুরোধ করেছি।
ভাটিয়ারীতে আটককৃত ছিনতাইকারীরা হল- রাফিয়া বেগম (৫০), আসমা বেগম (২৫), রিপা আক্তার (৩০), খাইরুন নেসা (৩২), ফতুলা বেগম (৪০) ও মর্জিনা বেগম (৩০)। তাদের বাড়ি ব্রাক্ষনবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানার ধর্মমণ্ডল লম্বাআডি এলাকার বাসিন্দা।
সীতাকুণ্ড মডেল থানা.সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। এ চক্রটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণালঙ্কার লুটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ছুরির মামলায় কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
বাবু/জেএম