প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুন, ২০২৩, ৭:১৯ পিএম (ভিজিট : ১০০০)

X
চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানাধীন উত্তর কাট্টলী এলাকায় পেশি শক্তির জোরে প্রকাশ্য দিবালোকে শতবর্ষী পুকুর ভরাট করছে স্থানীয় একটি চক্র। এই অবৈধ পুকুর ভরাটের প্রতিবাদকারীদের ঘরে ঘরে সন্ত্রাসীরা মহড়া চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অবশেষ স্থানীয়রা পুকুর ভরাট ও হুমকি ধমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন। ইতিমধ্যে এসিল্যান্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ পুকুর ভরাট বন্ধের পাশাপাশি ভরাটকৃত বালি উত্তোলন করে পুকুরটি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।
গত কিছুদিন যাবৎ উত্তর কাট্টলী বরদা বিশ্বাস সড়কের ছোট কালীবাড়ি পুকুর নামে পরিচিত শতবর্ষী পুকুর ভরাটে সরাসরি অর্থ ব্যয় ও জনবল নিয়োগ করছেন মিজানুর রহমান (৩৭) নামের এক ব্যক্তি। উত্তর কাট্টলী চৌধুরী বাড়ির জনৈক জালাল হোসেনের ছেলে মিজান এই পুকুর ভরাটের বিষয়টি এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে মিজানের দাবি পুকুরটি মালিক পক্ষের অনুরোধে শ্মশানে যাতায়াতের জন্য পুকুরের পাড়ে বালি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, “এই কাজের বিষয়টি স্থানীয় আকবর শাহ থানা, কাউন্সিলরসহ সমাজের সবাই জানে।” এসময় তিনি নিজে ঠিকাদারি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এই বিষয়টি কোন ভাবেই অবগত ছিলেন না আকবর শাহ থানা পুলিশ। পুকুর ভরাটে জড়িত সে যেই হোক, এলাকায় পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবেন বলে জানান আকবর শাহ থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন। তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, যেহেতু এসিল্যান্ড এই বিষয়ে কিছু নির্দেশ দিয়েছেন আমরা সেটিকে বাস্তবায়ন করতে তৎপর থাকবো। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নেছার আহমেদ মঞ্জু আলোচিত পুকুর ভরাটের বিষয়টি একেবারেই অবগত নন বলে জানান। তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, যে কারণেই ভরাট করুক না কেন, পুকুর ভরাটের কোন সুযোগ নেই। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে শতবর্ষী পুকুর রক্ষায় মানববন্ধন সহ নানান প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। এলাকার বাসিন্দারা এ সময় পুকুর ভরাটে জড়িতদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ শ্মশান, মন্দিরের নামে রাস্তা নির্মাণের নামে মূলত পুকুরটি ভরাট করে একটি চক্র জমি বিক্রির পাঁয়তারা করছে। নানান অপকৌশলে ইতিমধ্যে মিজান সংখ্যালঘু পরিবারের পূর্বপুরুষের ভিটা বাড়ি কিনছে। আর এসবের প্রতিবাদ করায় মিজান তার দলবল নিয়ে বিভিন্ন জনকে মারধরের পাশাপাশি মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। রবিবার (১৮ জুন) আকবর শাহ থানায় মিজানুর রহমান, পাপ্পু সেন ও প্রীতম সেন ঘরে ঢুকে সন্তান ও ননদকে মারধর ও ভাঙচুর ও অকথ্য ভাষায় গালালের বিষয়ে সাধারণ ডায়রি করেছেন লাকী মজুমদার নামের এক বাসিন্দা।
এই প্রতিবেদন লোখা পর্যন্ত (সোমবার সন্ধ্যা ৭টা) এসি ল্যান্ডের নির্দেশ মোতাবেক পুকুর ভরাটকৃত বালি অপসারণের কাজ শুরু করেনি। তবে মিজানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, স্থানীয় অসহায় একটি পরিবারকে সহায়তা করতে মিজান এই কাজ করছিল।