সীতাকুণ্ডে কোরবানির পশু চাহিদার চেয়েও বেশি মজুত, তবুও বাড়তে পারে পশুর দাম

মুসলেহ উদ্দিন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

সারাবাংলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে দেশি ঘরোয়া পদ্ধতিতে পালিত ও খামার পর্যায়ে

2023-06-19T20:59:24+00:00
2023-06-19T20:59:24+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে প্রান্তিক খামারিরা
সীতাকুণ্ডে কোরবানির পশু চাহিদার চেয়েও বেশি মজুত, তবুও বাড়তে পারে পশুর দাম
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলায় প্রস্তুত ৪৬ হাজার ৪৮৫টি পশু
মুসলেহ উদ্দিন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুন, ২০২৩, ৮:৫৯ পিএম   (ভিজিট : ৩০১)
X

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে দেশি ঘরোয়া পদ্ধতিতে পালিত ও খামার পর্যায়ে গবাদিপশুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। আর ১০ দিন পর চলতি মাসের আগামী (২৯ জুন) বৃহস্পতিবার মুসলমানরা ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া উপজেলাজুড়ে কোরবানীকে ঘিরে নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি প্রান্তিক গরুর খামার গড়ে উঠেছে। নতুন খামারি বাড়লেও গো-খাদ্য দাম বাড়ায় পশু পালনে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা। তবুও ভাল দামে বিক্রির আশা খামারিদের।

সীতাকুণ্ডে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু থাকলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে পশুর দামে। তাইতো এবার পশুর দাম বাড়তির দিকে থাকবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো পশুখাদ্যে উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও সার্বিক লালন-পালনের খরচ বাড়ার কারণেই এবার দাম বাড়তির দিকে থাকতে পারে। এছাড়াও ওষুধ, বিদ্যুৎ, কর্মচারীদের বেতনসহ সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে হয়েছে খামারিদের।

প্রাণিসম্পদ অফিস বলছে, সীতাকুণ্ডে এবারও পশুর সংকট হবে না। নতুনভাবে আমদানির প্রয়োজন হবে না। তবে খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে। এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন খামার ও প্রান্তিক পর্যায়ে কোরবানিরযোগ্য পশুর মধ্যে- গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৪৬ হাজার ৪৮৪টি। তাই কোরবানির জন্য এ উপজেলায় পশুর কোনো অভাব হবে না বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। চাহিদার চেয়েও বেশি পশু থাকায় বিদেশ থেকে গরু না আসলেও কোনো সমস্যা হবে না। বরং স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোছা. তাহমিনা আরজু।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীতাকুণ্ড উপজেলার ইজারাকৃত প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমসহ তদারকি কর্মকর্তারা থাকবেন। এ উপজেলায় হাট অনুযায়ী চারটি ভাগে সব কোরবানির হাটে ডিএফও এবং উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন। হাটের গরুগুলোর যেকোন ধরনের সমস্যা ও চিকিৎসেবা দিবে মেডিকেল টিম। এর মধ্যে পশু রয়েছে গরু (ষাঁড়), বলদ, গাভী (বন্ধ্যা), মহিষ, ছাগল, ভেড়া।

প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যনুযায়ী, গত বছর-২০২২ সালের জবাই করা পশুর সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৯৪০টি। এর মধ্যে ২৫ হাজার ২৫৪টি গরু জবাই করা হয়েছে। মহিষ ৯ হাজার ৯শ ৪২টি। ছাগল ৯ হাজার ৩৮৬টি ও ভেড়া জবাই করা হয়েছে ৩৫৮টি।

জানা গেছে, ভালো দামের আশায় কোরবানির বাজার ধরতে পশু পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। কেউ শখের বশে, কেউ বেকারত্বের অভিশাপ দূর করতে, কেউ পরিবারে স্বচ্ছলতা আনতে গড়ে তুলছেন এসব খামার। এদের মধ্যে অনেক শিক্ষিত তরুণরাও এগিয়ে আসছে পশুপালনে।

উপজেলার দক্ষিণ রহমত নগরের এন আর ডেইরি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. নাছির উদ্দীন বলেন, আমরা ৫ বছর ধরে গরুর খামার করছি। কোরবানির জন্য এবার ৩৫টি গরু প্রস্তুত আছে। আমরা দানাদার খাদ্য ও কাচা ঘাস খাওয়াই। আমরা দুজন পার্টনারে ৫ বছর যাবত খামার করছি। আমার দুইটি খামারে ৪-৫ জন মাসিক বেতনে কাজ করে তাদের বেতন ১৫-১৮ হাজার টাকা। বর্তমানে ৭টি বলদ ও ষাড় ২৮টি ষাড় গরু রয়েছে। আমাদের খামারে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে আড়াই লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। অনেক ক্রেতারা আসতেছে। আমরা খামারে বারোমাস গরু বেচাকেনা করি। 

ছোট দারোগারহাটের মো. আব্দুল আলিম নামে এক গরু খামারি বলেন, আমার খামারে বর্তমানে ২২টি গরু পালন করছি। এর মধ্যে তিনটা গাভী, একটা বাছুর, বড় বলদ ৬টি ও ষাড় রয়েছে ১১টি। এগুলি লাখ দামের। আমি ২০১১ সাল থেকে পশু পালন করছি এবছর একজনকে পার্টনার রেখেছি। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য চিকন ও মোটা ভুসি, খেসারি, চাষের সুর্যমুখীর খল্লি এবং কাচা নেপিয়ার ঘাস খাওয়ানো হয়। প্রকৃতিক উপায়ে গরুগুলোকে মোটাতাজা করছি। তবে খাদ্যের দাম অতিরিক্ত, ভুসির বস্তা ৩৪শ, এছাড়া ৩৫ কেজির বস্তা ভুসির দাম বেড়ে এখন ১৮ শ’ টাকা। খেসারি কেজি প্রতি ৬৫ টাকা বলে জানান তিনি। 

কুমিরা রয়েল গেইটের হাজ্বী এগ্রোর স্বত্বাধিকারী ইব্রাহিম জানান, আমার খামারে বড় ১৯টি গরু আছে। খামারের গরুগুলোকে নিয়মিত কয়েক প্রকারের ভুসি, চনা ও নেপিয়ার ঘাসের সঙ্গে শুকনা ঘাস খাওয়ানো হয়। তবে ভুসিসহ গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। এখনো হাট না বসলেও অনলাইনে ও সরাসরি শহরের ব্যবসায়ী ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছি। এখনো গরু বিক্রি শুরু করিনি। তবে এবারের বাজার কেমন হবে তা বুঝা মুশকিল। 

উত্তর এয়াকুব নগরের প্রান্তিক কৃষক নজরুল বলেন, গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় গরু পালনে খরচ বহুগুণ বেড়েছে। আমি ১০টি গরু পালন করছি। উত্তর ভাঠেরখীল গ্রামের বিজয় বলেন,আমি ৬টি গরু ও ৪টি ছাগল পালন করছি।  তাইতো ন্যায্য দামে পশু বিক্রি না হলে লাভের বিপরীতে লোকসান গুনতে হবে। এরমধ্যে পরিশ্রমের কথা তো ধরায় যাবে না নানারকম দেনা (ঋণ) নিয়ে পশু পালন করছি।

উপজেলা অফিসসূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) উপজেলায় উন্মুক্ত মাধ্যমে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় এবার অস্থায়ী হাট ১০টি, স্থায়ী ৩টি এবং পৌরসভার অধীনে হাইস্কু মাঠে ১টি হাট বসবে। সব মিলে ১৪টি স্থানে কোরবানির পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী হাট সীতাকুণ্ড পৌরসদরে হাইস্কুল মাঠ, ফকিরহাট, বড় দারোগারহাট, কুমিরা। এছাড়া অস্থায়ী হাটগুলো হল- সৈয়দপুর- শেখের হাট, তোহর আলী, মিয়াজান ভূঁইয়ার হাট, বারৈয়াঢালা- ছোট দারোগার হাট বাজার, বাড়বকুণ্ড- বাড়বকুণ্ড হাই স্কুল মাঠ, বাঁশবাড়িয়া - বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ, সোনাইছড়ি- মদনহাট বাজার, ভাটিয়ারী- মাদামবিবির হাট বাজার, ভাটিয়ারী উত্তর বাজার, সলিমপুর- ফৌজদারহাট সলিমপুর সিডিএ এলাকা। 

এদিকে, পৌরসভার অধীনে থাকা সীতাকুণ্ড মাঠের অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, মাঠটি অর্ধেক মাদ্রাসার সম্পত্তি। প্রতিবছর কোরবানি ও শিব চতুর্দশী মেলাতে পৌরসভা কর্তৃক ইজারা দেওয়া হলেও মাদ্রাসা ওই মাঠের একাংশের মালিক হওয়ায় ওই ইজারার অংশ মাদ্রাসাও প্রাপ্য। এ বিষয়ে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গনি জানান, এই মাঠটি অর্ধেক মাদ্রাসার সম্পত্তি। একসময় ইজারা থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ আলিয়া মাদ্রাসা পেত। গত বছরও মেয়রকে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি দিবেন বললেও কিন্ত কোন অর্থ দেননি। আমি অধ্যক্ষ পদে আসার পর গত কয়েক বছর যাবত পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম সাহেব ইজারা থেকে প্রাপ্ত কোন অর্থ দেননি। কোরবানির হাটের জন্য ইজারা দিলে আমাদের কোন আপত্তি নেই তবে মাদ্রাসার পাওনা মাদ্রাসাকে দিয়ে দিলে হয়। এবছরও আলিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মেয়র সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতেছেন বলে জানান তিনি।

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দাবি নাকচ করে পৌরমেয়র বদিউল আলম। তিনি আরও বলেন, এই মাঠটি মাদ্রাসা হয়ে থাকলে তারা কাগজপত্র দেখাতে বলেন। আগের কোন মেয়র যদি এ ইজারা বাবদ অর্থ দিয়ে থাকে তা আমার জানা নেই। তবে আমার আমলে মাদ্রাসাকে কোন অর্থ দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসার যদি ওই মাঠে অংশ দাবি থাকে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কাগজপত্র দিয়ে বৈঠক করুক। মেয়র বলেন এখানে আমকর কিছুই নেই ইউএনও যদি কাগজপত্র দেখে মাদ্রাসাকে দিতে বলে আমি দিয়ে দেব। তিনি আরও বলেন, আলিয়া মাদ্রাসার সভাপতি বাকের ভূঁইয়া আমাকে যখন বলেছেন আগে যেমনে দিতেন সেভাবে দেন। তখন আমি বলেছি আগে সরকারকে কোন টাকা দিতে হতো না। এখন রোল রেজুলেশন পাল্টেছে ইজারা থেকে অর্ধেক টাকা কেটে নেয় সরকার। যেহেতু এটি খাস এবং হাইস্কুলের জায়গা ইউএনওর অনুমতি ছাড়া আমার কিছুই করার নাই আর মাদ্রাসা আমাকে কোন কাগজপত্র বা খতিয়ান দেখাননি বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলায় ১০টি অস্থায়ী, ৩টি স্থায়ী এবং পৌরসভার অধীনে ১টি পশুর হাটসহ মোট ১৪টি স্থানে হাট বসবে। এসব হাটে সকলে নির্বিঘ্নে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। কোরবানির হাটে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। এর মধ্যে হাটগুলোতে মেডিকেল টিম এবং জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন রাখা হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং ব্যাংকের বুথগুলোতে হাটের টাকা লেনদেনের সুবিধার্থে সহযোগিতা দিব বলে জানান তিনি।

বাবুৃ/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy