
X
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে হিন্দু নেতা দেব দুলাল হাওলাদার (৪৭), উত্তম কুমার রায় (৪২) ও কৃষক লীগ নেতা শ্যামা শংকর রায় (৪৯) এর ওপর দুর্বৃত্তরা লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় পৌর শহরের বিমল কর্মকারের দোকানের সামনে পার্থ বেপারি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজল চন্দ্র দাস, বাবুল চন্দ্র কির্তুনিয়া ও তার ছেলে দ্রুব কির্তুনিয়াসহ ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী পিছন থেকে এ হামলা চালায়।
এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে গুরুতরও আহত দেব দুলালকে ভর্তি করেন। আহত শ্যামা শংকর ও উত্তম রায়কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন। শুক্রবার দুপুরে চোখ থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে গুরুতরও আহত দেব দুলালের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত দেব দুলাল হালদার বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ উপজেলা শাখার নির্বাহী সভাপতি ও বহেরাতলা গ্রামের মৃত. দ্বীজেন্দ্র নাথ হাওলাদার ছেলে। শ্যামা শংকর রায় উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর শহরের গয়ালীপাড়ার মৃত সত্যেন রায় এর ছেলে। উত্তম কুমার রায় বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও আমড়াগছিয়া গ্রামের মৃত ননী গোপাল রায় এর ছেলে।
স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ইউনিয়ন কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী না হওয়ায় দেব দুলাল, উত্তম কুমার ও শ্যামা শংকরদের সাথে ২০ থেকে ২৫ দিন পূর্বে কথা কাটাকাটি হয়। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে ১০ থেকে ১২ দিন পূর্বে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে উপজেলা কমিটি গঠন করেন। এতে সভাপতি হন কাজল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক পার্থ চন্দ্র বেপারি। সেই বিরোধের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেব দুলাল ও উত্তম মটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিল। এসময় পৌর শহরের বিমল কর্মকারের দোকানের সামনে আসলে বিদ্যুৎ চলে গেলে সারে আটটায় পার্থ বেপারি, কাজল চন্দ্র দাস, শিক্ষক বাবুল চন্দ্র কির্তুনিয়া ও তার ছেলে দ্রুব কির্তুনিয়াসহ ওৎ পেতে থাকা ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলের পিছন থেকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতরও আহত করেন। পরে দৌড়ে গিয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে শ্যামা শংকরকে পেয়ে তাকেও হাতুড়ি পেটা করে আহত করে।
আহত শ্যামা শংকর বলেন, ভূমি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে ছিলাম। এসময় শিক্ষক কাজল চন্দ্র দাস, বাবুল চন্দ্র কির্তুনিয়া, পার্থ বেপারি কিছু দলবলসহ অতর্কিত হামলা করে। পিছন থেকে কিল, ঘুশি ও হাতুড়ি দিয়ে আমার কনুইতে আঘাত করে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা কমিটির সভাপতি কাজল চন্দ দাস বলেন, বিষয়টি মোটেও সত্য নয়। বরং আমার বাসায় ইট পাটকেল ও লাঠি সোটা নিয়ে হামলা করে। এসময় ইট এসে আমার স্ত্রীর গলায় পরে কেটে যায়।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল পরির্দন করেছে পুলিশ। আবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাবু/জেএম