পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে বেধড়ক মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে৷ ২ জুলাই সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ২নং ঝিলপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে৷ ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপের সূত্রধরে বাংলাদেশ বুলেটিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷
ভিডিওতে যাকে পেটানো হচ্ছে তার নাম মো. সুমন৷ গুরুতর আহত সুমনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷ ঘটনার পর সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদকের সাথে সুমনের সাথে হাসপাতালে অবস্থান করা আহতের স্বজন নুরুল ইসলামের কথা হয়৷ নুরুল ইসলাম জানিয়েছে, মূল হামলাকারী বাবলুর বিরুদ্ধে সুমন ইতিপূর্বে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে৷ বাবলু সেই মামলা প্রত্যাহার করতে ইতিপূর্বে একাধিকবার সুমনকে ভয় ভীতি দেখিয়ে আসছিলো৷ এক পর্যায়ে বাবলু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর থেকে বাবুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা নিয়মিত মামলা তুলে নিয়ে সুমনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন আরো বাড়িয়ে দেয়৷ এর প্রেক্ষিতে মামলার বাদি সুমন স্থানীয় আকবর শাহ থানায় একটি জিডি করেন৷ আদালতের অনুমতিক্রমে সেই জিডির প্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান অবস্থায় ২ জুলাই সকাল আনুমানিক ১১টায় বাবলু ও তার দলবল আকবর শাহ থানাধীন ২নং ঝিলপাড় এলাকার সুমনের ঘরের সামনে সুমনকে বেধড়ক লাঠি পেটা করে৷ এসময় বাবলু মামলা তুলে না নেয়ায় সুমনকে পিটিয়ে হত্যা করবে মর্মে গালাগাল করে বলে নুরুল ইসলাম জানান৷ নুরুল ইসলাম আরো বলেন, "বাবলু মূলত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এরশাদ মামুনের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এসব অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে৷" ঝিলপাড় এলাকায় কেউ জমি কিনলে, বাড়ি করলে চাঁদা দিতে হয় বলে জানান তিনি।
এশকাল অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাবুলের পক্ষে সাফাই দিতে শুরু করেন৷ তার মূল ভাষ্য, বাবুলকে ইতিপূর্বে সুমন ছুরিকাঘাত করেছিলো তাই প্রতিশোধ নিতে বাবলু সুমনকে মারতে পারে৷ একজন আওয়ামী লীগ নেতা হয়ে এই ধরনের অপরাধীর পক্ষে অবস্থান নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ত বাবলু তার অনুসারী বলে অকপটে স্বীকার করে৷ একই সাথে তাকে আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী হিসেবেও উল্লেখ করেন৷ এরশাদ মামুন বেশ উত্তেজিত হয়ে বলেন, "আগে যখন বাবুলকে ছুরি মেরেছিল তখন সাংবাদিকরা কই ছিল। আজকে বাবুল সুমনকে মারছে এটা কোন আহামরি ঘটনা নয়৷" ঝিল এলাকায় তার অনুসারী অনেককে মারধর করা হয় বলে জানান এরশাদ মামুন৷ সুমন যদি অপরাধীও হয়ে থাকে তারপরও কি বাবলু এভাবে কাউকে মারধর করতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে এরশাদ মামুন বলেন, "এ রকম আমার শত শত লোকজনকেও ঝিল এলাকায় রক্তাক্ত করা হয়েছে৷" এক পর্যায়ে এই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা প্রতিবেদককে উচ্চস্বরে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে থাকে। তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাবে বলেন, আপনার যা খুশি তা লিখে দেন।"
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, এরশাদ মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই৷ এরশাদ মামুনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বাবলু এলাকায় নানান অপকর্ম সংঘটিত করে আসছে৷ বিশেষ করে এই এলাকায় জায়গা কেনা-বেচা ও নতুন বাড়ি করতে চাঁদা দেয়া বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে হামলার শিকার সুমনের বিরুদ্ধে বাবলুকে হামলার মামলা রয়েছে বলে আকবর শাহ থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ ২ জুলাই হামলার ঘটনার ৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানিয়েছেন, সিএমপির আকবর শাহ থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালী উদ্দিন আকবর।
মারধরের শিকার ব্যক্তির নাম মো. সুমন৷ এই হামলায় সরাসরি অংশ নেয়া বাবলু ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি সহ নানান অভিযোগ রয়েছে৷ হামলার শিকার সুমনের বিরুদ্ধেও আকবর শাহ থানায় মামলার হদিস মিলেছে।