প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ জুলাই, ২০২৩, ৬:০২ পিএম (ভিজিট : ১৪৩)

X
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) গাড়ি চালক মো. রুবেলকে মারতে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে উপজেলা কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. আহসান হাবিবসহ দুই সন্ত্রাসী। তাদের তাড়া খেয়ে আত্নরক্ষায় গাড়ি চালক রুবেল অফিসের দোতলায় উঠলে সন্ত্রাসীরা সিঁড়ি বেয়ে সেখানেও উঠে যায়। গাড়ি চালক রুবেলকে মারতে না পারলেও অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ইউএনও অফিস থেকে বেড়িয়ে যায় ওই দুই সন্ত্রাসী। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন উপস্থিত লোকজন।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় তারা অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে ধাওয়া করে চালককে মারতে না পেরে নির্বিঘ্নে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স থেকে বের হয়ে যায়। আহসান হাবিব উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে এবং উপজেলা যুবলীগের উপ-কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তবে তার সহযোগীর নাম পরিচয় জানা যায়নি। ইউএনও’র গাড়ি চালক রুবেল সদর উপজেলার উলুপুর ফুলবাগান এলাকার মৃত আবুল বাশারের ছেলে।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (সরকারি) গাড়ি চালক মো. রুবেল জানান, তার বড় ভাই খোকন রেন্ট ও কারের ব্যবসা করেন। নলডাঙ্গার স্থানীয় যুবলীগ কর্মী আহসান হাবিব ঈদের আগে তার ভাইয়ের প্রাইভেট কারটি ভাড়া নিয়ে ৫ দিন রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। কিন্তু ভাড়া না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন আহসান হাবিব। এ নিয়ে আজ সকালে তার ভাইয়ের সাথে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয় হাবিবের। এসময় ভাড়া পরিশোধের কথা বললে আহসান হাবিব ছোট ভাই রুবেলকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এই বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার বড় ভাই খোকন তাকে অবহিত করে। এ অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউএনও অফিসের গেটের সামনে এসে তাকে তার মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে রাজি না হলে জোড় করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে ইউএনও অফিসের সামনে নিয়ে যায়। এসময় ধারালো অস্ত্র বের করে তাকে মারতে গেলে আত্নরক্ষায় দৌড়ে পালিয়ে ইউএনও অফিসে ঢুকে পড়েন তিনি। এসময় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে তারাও মারার জন্য পিছু নেয় এবং দোতালা পর্যন্ত উঠে আসে। কিন্তু লোকজনের উপস্থিতি দেখে তারা চলে যায়। পরে বিষয়টি ইউএনও এবং পুলিশকে জানান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল যেহেতু উপজেলা কমপ্লেক্সেও ভিতরে, তাই কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোজিনা আক্তার জানান, প্রাথমিকভাবে জেনেছেন তার চালক রুবেলের ভাইয়ের সাথে আহসান হাবিবের বিরোধ রয়েছে। প্রাইভেট কারের ভাড়া নিয়ে মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ভাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে রুবেলের ওপর তারা অস্ত্রসহ হামলার চেষ্টা করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. আকবর হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।
নলডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন নকুল জানান, উপজেলা যুবলীগের কমিটিতে আহসান হাবিবের কোন পদ-পদবী ও সদস্য পদও নেই। তবে কমিটি গঠনের সময় তাদের মতামতের বাহিরে একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে তাকে সাংগঠনিক পদ দেয়া হয়েছিল বলে শুনেছেন। কিন্তু ওই কমিটির কোন অনুমোদন ছিল না। এ ব্যাপারে জানতে যুবলীগ নেতা আহসান হাবিবের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সরকারি কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের গাড়ি চালককে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে উপজেলা কার্যালয়ে ঢুকে মারার চেষ্টা, এটা একটা নিরাপত্তার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বেও সঙ্গে দেখা উচিত। কেননা এই ঘটনায় অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে আরো অনেকের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসনের কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একই কথা বললেন স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা।
বাবু/জেএম