প্রকাশ: বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩, ৫:৫১ পিএম (ভিজিট : ৪৬২)

X
খনন করা ড্রেনের মাটির স্তুপ সড়কজুড়ে। আবার কোথাও কোথাও ইট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও সরঞ্জাম সড়কে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে পথচারী ও যান চলাচল, ঘটছে দুর্ঘটনা, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নয়ন কাজে ধীরগতির ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে আছেন পৌরবাসী।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় গেল বছর মার্চে দরপত্র আহব্বান করে। দুই হাজার ৪০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় কুমিল্লা দাউদকান্দি এলাকার লিবার্টি ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের নভেম্বরে। এই কাজের কার্যকাল ৯ মাস। কিন্তু ৮ মাস পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬৪০ মিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এবং কাজের ধীরগতির কারণে পৌরসভার বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের ব্যাস্ততম সড়ক খড়মপুর সড়কের দু’তলা মসজিদের সামনে থেকে মসজিদ পাড়া ও জনগুরুত্বপূর্ণ‚ এলাকা কলেজ পাড়া এলাকায় বন্ধ রয়েছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। সর্বত্রই দেখা যায় রাস্তার ওপর নির্মাণ সামগ্রী, মাটি, বালি, পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন গাড়ির চাকায় সেগুলো পিষ্ট হয়ে ধুলায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। আর বৃষ্টির দিনে এ যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে ড্রেন নির্মাণের অধিকাংশ অংশ খুড়ে রাখা হয়েছে। খন্ড খন্ড অংশের কিছু কাজ হলেও তা অরক্ষিত। খোলা ড্রেনে যেমন দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে, তেমনি খুঁড়ে রাখায় দুর্ঘটনাও ঘটছে মাঝেমধ্যে। কলেজ পাড়ার এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম মিয়া বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তিন চার মাস যাবত কাজ করছে না। এজন্য আমার বিল্ডিংয়ের দেয়াল ধসে পড়েছে। এখন বৃষ্টিতে অবস্থা আরও খারাপ। আমার ঘরের দেয়ালও ফাটল দিয়েছে। উন্নয়ন হোক আমরাও চাই। উন্নয়ন হলে সবারই উন্নয়ন। কিন্তু এ উন্নয়ন এখন আমার গলার কাঁটা হয়েছে।
কলেজ পাড়ার ব্যবসায়ী আকরাম মিয়া বলেন, ড্রেনের কাজ করার সময় আমার দোকান ভেঙ্গে পড়েছে। ৪ মাস যাবত কর্মচারীদের বসাইয়া বসাইয়া বেতন দিতেছি। ঠিকাদার বলেছিল তিন দিনের ভিতরে কাজটা শেষ করে দিবে। কিন্তু আজ ৪ মাস হয়ে গেছে ড্রেনের কাজটা শেষ করতেছে না। আমি খুব ক্ষতিগ্রস্ত। আমার ব্যবসা বন্ধ। তিনি দ্রত কাজ শেষ করার দাবী জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লিবার্টি ট্রের্ডাসের অংশীদার রমিজ উদ্দিন বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে। কাজটা করতে গিয়ে আমরা অনেক লোকসানের পড়েছি। এজন্য কাজ করতে পারিনি। ভাবছিলাম জুন মাসের পরে দাম কমবে। কিন্তু এখন দর দাম যাই হোক কাজ ধরব। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, এ কাজের সম্পূর্ণ দায় দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। তারপরেও জনগণ কষ্ট করতেছে বিধায় আমি গত মাসের ১৮ তারিখ জনস্বাস্থ্যের প্রকৌশলী, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার এবং ঠিকাদার সবাইকে নিয়ে বসে আলোচনা করি। তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে বলেছিল এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ ধরবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কাজ ধরেনি। পরবর্তীতে আমি জনস্বাস্থ্যের প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি তারা ঠিকাদারকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে চিঠি দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চিঠির জবাব না দিলে ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিল করবে। পৌরবাসীর এ দুর্ভোগের জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আখাউড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, ঠিকাদারকে দ্রত কাজ শেষ করার আল্টিমেটাম দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার যদি দ্রত কাজ শেষ না করে তাহলে তাদের ওয়ার্ক অর্ডার বাতিল করে নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হবে বলে জানতে পেরেছি।
বাবু/জেএম