
X
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার চিতুলিয়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে দেখা দিয়েছে যমুনার তীব্র ভাঙন। ভাঙনে নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অব্যাহত ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনসহ সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু-ভূঞাপুর সড়কে দুই ঘন্টাব্যাপী যমুনা পূর্ব পাড়ের ভাঙন কবলিত চিতুলিয়াপাড়া গ্রামবাসী বিক্ষোভ সমাবেশে করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, নুরুজ্জামান মাস্টার, আনোয়ার হোসেন, তপুসহ স্থানীয় লোকজনের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন। অবরোধের কারণে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন। তিনি তাৎক্ষণিক ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ঘোষণা দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
চিতুলীয়াপাড়া গ্রামের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানো আনোয়ার হোসেন বলেন, গত একমাস থেকে এই এলাকায় যমুনার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে আমার বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমি পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
একই গ্রামের জামাল উদ্দিন বলেন, নদী ভাঙনের কারণে এ পর্যন্ত আমি কয়েকবার আমার বসতভিটা হারিয়েছি। এবারের ভাঙনেও আমার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন আর আমার বসতি গড়ে তোলার কোন জমিজমা নাই। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব ভেবে পাচ্ছি না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, নুরুজ্জামান মাস্টার ও তপু বলেন- গত কয়েক বছরে আমাদের এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চলতি বছরেও ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধ শতাধিক বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ না দিলে আমাদের পুরো গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে যমুনার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে যমুনা পূর্ব পাড়ের হাজারো মানুষ। চোখের সামনে নিমিষেই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসত ভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে ভাঙন কবলিত এসব মানুষদের। যমুনা পূর্ব পাড়ের চিতুলিয়া পাড়া এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক বসতভিটা, রাস্তাঘাটসহ নানা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর ভাঙন রোধে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও ব্যাগও ভাঙন রোধে তেমন একটা কাজে আসছে না। ঘরবাড়ির সাথে জিও ব্যাগ গুলোও নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য এমপি ছোট মনিরের হস্তক্ষেপে গত রবিবার (২ জুলাই) থেকে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ভাঙন ঠেকাতে যে এলাকায় জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে লোকজন আন্দোলন করছিল সে এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছে তাদের তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ঘর করে দেয়া হবে। এছাড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভূঞাপুরের যমুনা পূর্ব পাড়ের চিতুলিয়া পাড়া ভাঙন ঠেকাতে কিছু অংশে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আরো জিওব্যাগ ফেলার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। হয়তো দুই তিন দিনের মধ্যে সেই কাজ শুরু হবে।
বাবু/জেএম