টনের্ডোতে সব হারিয়ে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস

কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

সারাবাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের উপর দিয়ে গত ৩০ জুন বয়ে যায় ভয়াবহ টনের্ডো ও ঝড় বৃষ্টি।

2023-07-06T19:54:45+00:00
2023-07-06T19:54:45+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
টনের্ডোতে সব হারিয়ে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস
কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০২৩, ৭:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ৩১২)
X

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের উপর দিয়ে গত ৩০ জুন বয়ে যায় ভয়াবহ টনের্ডো ও ঝড় বৃষ্টি। এতে আলীয়াবাদ গ্রামের গোলাম মো. সোহরাব হোসেনের একটি গরুর খামার, সাদ্দাম হোসেনের ঘরের চালা ও ইকরাম হেসেনের বসতঘর আকাশে উড়ে যায়। নিজের একমাত্র বসতঘর হারিয়ে ইকরাম হোসেন বর্তমানে তার পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা তাদের কপালে এখনো জুটেনি।

বৃহস্পতিবার  (৬ জুলাই) সরেজমিনে আলীয়াবাদ গ্রামে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে ইকরাম হোসেন বলেন, আমরা রায়পুরা উপজেলার কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলাম, মেঘনা নদীর ভাঙনের ফলে আমাদের বাড়িঘর সব কিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পরে আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় আলীয়াবাদ গ্রামে এসে বসতি হয়ে একটি ঘর তৈরি করেছিলাম। এই ঘরটি ঈদের পরদিন টর্নেডো এসে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। অর্থের অভাবে ঘরটি মেরামত করতে পারছি না। গত সাতদিন ধরে আমার বৃদ্ধা মা’সহ পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। বৃষ্টি এলে পলিথিন কাগজ শরীরের উপরে দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা এখনো আমরা পাইনি। 

গোলাম মো. সোহরাব হোসেন বলেন, আমার গরুর খামার টর্নেডোর আঘাতে সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক টিন আমার চোখের সামনে দিয়ে আকাশে উড়ে গেছে। এ পর্যন্ত আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খবর নিতে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে সরকারি কর্মকর্তা কিংবা কোন জনপ্রতিনিধি আসে না। সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার ঘরের একটি চালা আকাশে উড়ে গেছে, ওই সময় টিনের আঘাতে শত বছরের আমার বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগম গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, টর্নেডোর আঘাতে যাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ নষ্ট হয়েছে, তাদের পাশে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি সহযোগিতা করা উচিত ছিলো, ইকরামের পরিবার খোলা আকাশের নিচে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। সব হারিয়ে এখন তারা চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। 

টর্নেডোর পরপরই নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা করা হচ্ছে। অথচ ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনো সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্টের কথা জানতে পেরে আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা বাহারাইন প্রবাসী মোশারফ হোসেন ২০ হাজার ও জিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবি উল্লাহ  ১০ হাজার,সাতমোড়া গ্রামের আজাদুল ইসলাম ১০ হাজার  টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। সাংবাদিক আলামিনুল হক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।

খুব দ্রুত সময়ের মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারি সাহায্য ও সহযোগিতা পাবেন। এবং তাদের দুঃখ লাঘব হবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy