শেরপুরে অবিক্রিত কোরবানির ৪০ হাজার পশু, চিন্তার ভাঁজ খামারিদের কপালে

সুজন সেন, শেরপুর

সারাবাংলা

শেরপুরে কোরবানির ৪০ হাজার পশু অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে গেছে। খামারিরা বলছেন, কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় পশু বিক্রি করতে

2023-07-07T14:29:44+00:00
2023-07-07T14:29:44+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
শেরপুরে অবিক্রিত কোরবানির ৪০ হাজার পশু, চিন্তার ভাঁজ খামারিদের কপালে
সুজন সেন, শেরপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩, ২:২৯ পিএম   (ভিজিট : ১৫২)
X

শেরপুরে কোরবানির ৪০ হাজার পশু অবিক্রিত অবস্থায় রয়ে গেছে। খামারিরা বলছেন, কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় পশু বিক্রি করতে পারেননি এ কারণে বেকায়দায় পড়েছেন তারা। অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন অবিক্রিত ওইসব পশু সারা বছর নানা দিবস ও অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে বিক্রি হয়ে গেলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন খামারিরা। 

সদর উপজেলার চরশেরপুর এলাকার গরুর পাইকার হামিদ মিয়া বলেন, এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ৯০ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়। এরমধ্যে অন্তত ৪০ হাজার পশু অবিক্রিত রয়ে গেছে। তিনি জানান, তার পাঁচটা গরু বিক্রির জন্য ঢাকায় নিয়েছিলেন। ক্রেতারা দাম কম বলায় ৪টা ফেরত এনেছেন।

সদর উপজেলার লছমনপুরের জিহান ডেইরি ফার্মের মালিক রেহানা ইদ্রিস ব্যাংক ঋণ নিয়ে ১৫০টি বড় ষাড় গরু প্রস্তুত করেছিলেন কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য। প্রত্যাশা ছিলো ষাড় বিক্রি করে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে লাভবান হবেন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় ঢাকার ভাটারার সাঈদ নগর গরুর হাট ও মিরপুর গরুর হাটে ১৫০টি ষাড় গরু নিয়ে যান।  ১০দিন অপেক্ষার পর কম দামে ২৭টি গরু বিক্রি করেন। বাকি ১শ ২৩টি গরু ফেরত আনতে হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন এ খামারি। 

জিহান ডেইরি ফার্মের ম্যানেজার মুকুল হোসেন বলেন, মালিকের ব্যাপক লোকসান হয়েছে। বাজারে এবার গরুর দাম কম ছিলো। আর আশানুরূপ বিক্রিও করতে পারে না। বিক্রির আশায় শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু ক্রেতারা গরুর দামই করে না। কমদামে ২৭টি গরু বিক্রি করে আসা যাওয়ার খরচটা তুলে এনেছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যবারের তুলনায় জেলায় এবার কোরবানি কম হয়েছে। ঢাকাসহ অন্য স্থানে শেরপুরের পশু তেমন একটা বিক্রি হয়নি। চাহিদার চেয়ে বেশি গরু কোরবানির হাটে আমদানি হওয়ায় অনেক কম দামে পশু বিক্রি করতে হয়েছে। তাই অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে নিয়ে গেছে তাদের কোরবানির পশু। এদিকে বেশি দামে কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি, ভূট্টার গুড়া ও খৈলসহ নানা ধরনের খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করায় উৎপাদন করতে খরচ বেশি হয়েছে। তাই আশানুরুপ দাম না পেয়ে হতাশ ছোট-বড় খামারি ও কৃষকরা।

সদর উপজেলার কামারেরচর গ্রামের গরু খামারি হারুন বলেন, আশা করে দুইডা গরু পালছিলাম। ঢাকা নিয়া তো একটাও বেচবার পাই নাই। উল্টা ঢাকা যাওয়া আসার খরচ হইলো। বাজিতখিলার মাইনুল হোসেন বলেন, শহরের নওহাটা গরুর হাটে একটা বড় গরু তুলছিলাম। ক্রেতারা দাম কম বলে, তাই আর বিক্রি করি নাই। এখন এই গরুটা আরও একবছর পালতে হবে। খরচও আছে এর পিছনে। খোয়ারপাড়ের হযরত বলেন, এবার বড় গরুর দাম একেবারে কম গেছে। আমার গরুটা তিন লাখ টাকা হইতো। কিন্তু শেষের দিন দুই লাখ টাকাতেই দিয়া দিছি। এতে আমি অনেক লোকসানে পরে গেছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা যায়, এবার ঈদে জেলার সদর উপজেলাসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নকলায়  কোরবানির জন্য ৫৬ হাজার ৪শ ৪৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়। আর জবাই করা হয়েছে সাড়ে ৫৪ হাজার পশু। জেলার মোট ২৫টি হাট এবং পাঁচটি অনলাইন প্লাটফর্মে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছিলো।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবার ৪০ হাজারের উপরে কোরবানির পশু অবিক্রিত রয়ে গেছে। আশা করছি অবিক্রিত পশুগুলো আগামী নানা দিবস ও অনুষ্ঠানে বিক্রি হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, সারা বছরই মাংসের একটা চাহিদা আছে। তাই খামারি ভাইদের চিন্তার কোন কারণ নেই।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy