
X
মঠবাড়িয়ার মানুষের প্রতি আমার অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ আপনাদের প্রিয়জন অসুস্থ হলে কখনোই মঠবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হবেন না। সম্প্রতি এমন একটি লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ভাইরাল হয়। মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি শাকিল আহমেদ নওরোজ তার ফেইজবুক পেজে এমন পোষ্ট করলে রীতিমত আলোরন সৃষ্টি হয়।
শাকিল আহমেদ নওরোজ তার পোষ্টে লেখেন, সম্প্রতি আমার স্ত্রীর শ্বাসনালীতে খাদ্য আটকে যাওয়ার কারণে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার লড়াই কতটা ভয়ানক হতে পারে। মঠবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তারকে ফোন করে অনেক অনুনয় বিনয় করেছিলাম। তাকে নিয়ে আসার জন্য মোটরসাইকেল পাঠিয়েছিলাম। আমার কোন অনুরোধই তাকে মন গলাতে পারিনি। পরবর্তীতে শুনলাম ডিউটি ডাক্তার সাহেব কোন এক রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের বড় নেতা ছিলেন। আমি তার আচরণের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানাই। তিনি আরও লেখেন পরবর্তীতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে সদর হাসপাতালে গেলে আমি দেখতে পাই ডিউটি ডাক্তার সাহেব যাকে আমি ফোন করেছিলাম তিনি পাশের রুমে বসে মোবাইলে গেমস খেলছেন নয়তোবা ফেসবুক দেখছেন। মঠবাড়িয়ার মানুষের প্রতি আমার অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ আপনাদের প্রিয়জন অসুস্থ হলে কখনোই মঠবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হবেন না। মুহুর্তেই এ পোষ্ট ভাইরাল হয় এবং ফেইজবুকে সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমাদুল হক খান লেখেন, ডিউটিরত ডাক্তারের আচরণে আমি মর্মাহত ক্ষুব্ধ। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নূর হোসাইন মোল্লা লেখেন, অতিশয় দুঃখজনক। হাসপাতালেও রাজনীতি। রাজনীতি মানব কল্যাণে নিবেদিত হওয়া উচিত। চিকিৎসকগণের প্রতি আমার সবিনয়ে অনুরোধ, দল মত নির্বিশেষে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত থাকুন।
সাবেক কমিশনার ও পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন লেখেন, আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বর্তমান মঠবাড়িয়া হাসপাতালে যে সমস্ত ডাক্তার এসেছেন তাদের আচার-আচরণ নাকি এমনই।
কে আর রাজদীপ লেখেন, মঠবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ডাক্তার সত্যিই অমানবিক আমারও এরকম অবস্থার স্বীকার হয়েছি তাদের কারণে। কে ই জাহান লেখেন, ওরা ডাক্তার না অমানুষ আমরাও জরুরী মুহূর্তে ওদের থেকে কখনও ভালো সেবা পাইনি। জে এম ইব্রাহীম লেখেন, রাজনৈতিক দলের বড় নেতা আপনাদের সাথে যদি এমন আচরণ করে তাহলে একবার বুঝেন আমাদের সাথে তারা কেমন ব্যাবহার করে।
ওবায়দুর ইসলাম টিটু লেখেন, আপনি একজন রাজনৈতিক নেতা আপনার উচিত এদেরকে ধরে গলা ধক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া, কারণ এরাই আমাদের সরকারে বদনাম কুরাচ্ছে, সে যত বড় মাপের নেতা হোক তাকে একবার শিক্ষা দিয়ে দেন অন্যেরাও শিক্ষা পেয়ে যাবে। কামরুজ্জামান কায়েন লেখেন, ঐসব নরপিশাচ কসাই ডাক্তার কে ধিক্কার জানাই তীব্র নিন্দাও প্রতিবাদ জানাই।
সাবেক যুবলীগ সভাপতি শাকিল আহমেদ নওরোজ জানান, আমার স্ত্রীর শ্বাসনালীতে খাদ্য আটকে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অসিত বরণকে বারবার ফোন করে রিকোয়েষ্ট করি এবং গাড়ি পাঠাই আসার জন্য। তিনি আমার কোন কথাই শোনেন নি। এতে আমার স্ত্রীর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সারোয়ার হোসেন জানান, শাকিল সাহেব রাত একটার দিকে ফোন করে ডিউটিরত ডাক্তারকে বাসায় যেতে বলেন। ওই সময়ে ডিউটি ছেড়ে ডাক্তার কখনোই বাইরে যেতে পারেন না। তিনি যদি আমাকে ফোন করতেন প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে দেখে আসতাম। শাকিল সাহেব সেটা না করে ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অসিত বরণের সাথে অনৈতিক আচরণ, গালাগালি করেন।
বিষয়টি ইউএনও, ডিসি মহোদ্বয়কে অবহিত করেছি। পেশাগত দায়িত্বে বাধা এবং অনৈতিক আচরণের বিষয়ে জানিয়ে রবিবার ডিজি মহোদ্বয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবো।
বাবু/জেএম