প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩, ৮:৪১ পিএম (ভিজিট : ৩৭৫)

X
চট্টগ্রামের মশার উপদ্রব বিগত সকল সময়ের চেয়ে অনেক বেশী বলেই মনে করছে নগরবাসী৷ তবে মশক নিধনে নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। খোদ চসিক মেয়র একাধিকবার এই মশার উৎপাতের জন্য সিডিএ'র চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কারণে খালে অস্থায়ী বাঁধ দেয়াকে দায়ী করেছেন৷ যদিও নগরবাসীর মধ্যে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে৷ বেশির ভাগ নগরবাসী মশক নিধনে ব্যবহৃত ঔষধের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে৷ ইতিপূর্বে এই মশার ঔষধ ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নেমে কাজ শুরু করেছে দুদক।
চট্টগ্রাম নগরিতে যখন ডেঙ্গু ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তখন মশক নিধনের জন্য গত ২২ জুন থেকে নগরীর ৪১টি আগামী ১০০ দিনের ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন৷ তবে এসব প্রোগ্রামের পর মশার উৎপাত কমেনি বলে মনে করছে নগরবাসী৷ বিশেষ করে সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একাধিক শিশুর পরিবার নিজ নিজ এলাকায় মশক নিধনে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে দেখেননি বলে অভিযোগ তুলেছে৷ যদিও চসিক বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে৷
তবে বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) প্রথমবারের মতন মশা নিধনে গাফিলতির জন্য একত্রে নয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। চসিক'র ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম মাহী জানিয়েছেন, বুধবার (৫ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরীর সব ওয়ার্ডে একযোগে মশার ওষুধ ছিটানোর কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ছয় ওয়ার্ডে সঠিকভাবে মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য এসব ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার, স্প্রে ম্যান ও তত্ত্বাবধায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে- দক্ষিণ কাট্টলী, দেওয়ানবাজার, জামালখান, দক্ষিণ আগ্রাবাদ, পশ্চিম মাদারবাড়ি ও গোসাইলডাঙ্গা। এই অভিযোগের বিষয়ে শোকজ পাওয়া একাধিক জনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা স্প্রে করেছেন বলে দাবি করেন। তবে তারা নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ঔষধ স্প্রে করার ছবি দিতে পারেনি বলে স্বীকার করেন।
এদিকে নগরীর ভবনগুলোতে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধানে নেমে আট ভবন মালিককে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চসিক। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর খুলশী থানার উত্তর খুলশী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়। চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মনীষা মহাজন এ অভিযান পরিচালনা করেন।
চসিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানে ২৫ টি বাড়ি পরিদর্শন করে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে এডিস মশার বংশ বিস্তারে জমাটবদ্ধ পানির উৎস পাওয়ায় এবং অপর ৭টি ভবনের ছাদে পরিত্যক্ত টব ও পাত্রে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুপূর্বক সর্বমোট ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।