
X
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে একই হাসপাতালে মোট ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময়ে হাসপালে আব্দুর রাজ্জাক (৫০) নামের অপর এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক জেলার তারাকান্দা উপজেলার মৃত মাহিমের ছেলে।
তিনি গাজীপুরের মাওনাতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় আসেন। শুক্রবার রাত ৭ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতারে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার ঘন্টা খানেক পরে তিনি মারা যান। মমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শরিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ৩টি ওয়ার্ডে মোট ২৩ জন পুরুষ রোগী ভর্তি আছেন। তারা প্রত্যেকেই সিলেট জামালপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার ভর্তি হয়েছেন সঞ্জু মিয়া। তিনি জেলার নান্দাইল উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন গরু বিক্রি করতে সিলেট গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ঈদের পরদিন থেকে জ্বর, শরীর ব্যাথা, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যাথা ও প্যাট ব্যাথা অনুভব করেন। পরে পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয় ধরা পড়ে। পরে ওই দিনই হাসপাতালে ভর্তি হন। এখন আগের চাইতে অনেকটা ভাল আছেন বলে জানান তিনি।
একই ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ধোবাউড়ার রফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকায় রিকশা চালাতেন। সম্প্রতি জ্বর অনুভব হলে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে অবস্থার অবনতি হলে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে রক্ত পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানতে পারেন। পরে ওই দিন ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এখন কিছুটা ভাল। এখানে কোন ওষুধ কেনার প্রয়োজন হয়নি। সকল ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
জামালপুর সরিষাবাড়িতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন মেহেদী হাসান। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। গত ৩০ জুন জ্বর আক্রান্ত হন। গত ১ জুলাই পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু ধরা পরে। ডেঙ্গু ধরা পড়ার পরদিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. ফরহাদ হোসেন হীরা বলেন, প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ৫ থেকে ৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, জামালপুর, ঢাকা ও গাজীপুর থেকে আক্রান্ত হয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টানাতে অনিহা আছে। রোগীদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আলাদা ওয়ার্ড গঠনে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রোগী ভর্তি ৩০ জন পার হলেই চালু করা হবে আইসোলেশন ওয়ার্ড।
বাবু/জেএম