প্রকাশ: বুধবার, ১২ জুলাই, ২০২৩, ৪:৪৫ পিএম (ভিজিট : ৩০০)

X
বুড়াগৌরঙ্গ নদীর পাড়ে গড়ে উঠা ডকইয়ার্ডে কারিগড়-শ্রমিকদের হাতুড়ি পেটার শব্দে মুখর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ বাজার স্লুইস খাল। সাগরে চলছে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এর সময়টাতে মাছ ধরার ফিশিং ট্রলারগুলো সংস্কার কাজে ব্যস্ততা রয়েছে জেলেদের। তবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় মেরামতের খরচ বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ২০ মে থেকে শুরু হওয়া ৬৫ দিনের নিষাধাজ্ঞার ৫০ দিন পেরিয়ে গেল। তবুও ভিড় রয়েছে ডকইয়ার্ডে।
ডকইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুরাগৌরাঙ্গ নদীর তীরের দুইটি ডকইয়ার্ডে চলছে মহাকর্মজজ্ঞ। শ্রমিকরা কেউ কেউ ডকইয়ার্ডে আসা ট্রলার টেনে তুলছেন। আবার কোথায় কি ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ণয় করছেন কারিগররা। ডকইয়ার্ড সংশ্লিষ্টদের সাথে জানা গেল, একটি ট্রলার মেরামতে ৫-৭ দিন সময় লাগে। ট্রলার মহজনদের কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই এখানে সংস্কার কাজ করতে পারছে। খরচও কম। তবে সারা বছরের চেয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়ে ডকইয়ার্ডে কারিগরদের ব্যস্ততা বেশি থাকে। কেননা নিষেধাজ্ঞার এই সময়টায় সাগরে থাকা ট্রলার ঘাটে থাকে। যখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যায় তখন প্রাণ হারায় ইয়ার্ড।
ডকইয়ার্ডের কারিগর-শ্রমিকরা বলেন, সাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডকইয়ার্ডে মাছ ধরার ট্রলারের মেরামতের জন্য এখন ভিড়, এ কারণে বেড়েছে কাজ। তারা আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন ট্রলারগুলো ঘাটে আসে। তাই এই সুযোগে মালিকপক্ষ ট্রলার মেরামত করে নেয়। মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌযান মেরামতের খরচও বেড়েছে। প্রতিটি নৌযান মেরামত করতে আকারভেদে ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের ৮৬ কেজি করে খাদ্যসহায়তা হিসেবে চাল দেয়ার কথা। যা দুই ধাপে বিতরণ করা হবে। এ উপজেলায় নিবন্ধিত ১২ হাজার ৮২০ জন জেলে রয়েছে। এ ছাড়াও যারা অনিবন্ধিত জেলে তাদের নিবন্ধন তালিকা প্রক্রিয়াধীন
ডকইয়ার্ড মালিক আজাদ সাথী বলেন, ‘সাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে উপকূলীয় এলাকার সমুদ্রগামী জেলেরা তাদের ট্রলার-ফিশিংবোটের বডি ও ইঞ্জিনের মেরামতের কাজগুলো সেরে নিচ্ছে। বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে ২০১৮ সালে একটি ও ২০২২ সালে আমার ডকইয়ার্ড টি গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগেও অলস সময় কেটেছে ডকইয়ার্ডের কারিগর-শ্রমিকদের। কিন্তু এখন সবাই ব্যস্ত সময় পাড় করছে। এ কারনে বেড়েছে তাদের রোজগার।’
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আকন্দ বলেন, সাগরে এখন সকল প্রকার মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। যার কারনে জেলেরা অলস সময় পাড় না করে মাছ ধরার সরঞ্জাম প্রস্তুত করছেন।
বাবু/জেএম