
X
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। চোরের তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। চুরি ঠেকাতে গোয়াল ঘরে রাত জেগে গরু পাহাড়া দিচ্ছেন গরুর মালিকরা। রাত গভীর হলেই, ‘ধর ধর চোর চোর’ এমন চিৎকারে ঘুম ভাঙছে গ্রামবাসীর। প্রতি রাতে একবার নয়, দুই থেকে তিনবার এমন ঘটনা ঘটে। গরু চোরের উপদ্রপে অতিষ্ঠ মানুষ।
ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া, চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে এসব ঘটনা ঘটছে। গত এক থেকে দেড় মাসে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ৪০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে চুরি হয়েছে চর লক্ষীপুর কাছিমুল উলুম মসজিদ জামে মসজিদ, মাদ্রাসার মালামাল। কবর থেকে চুরি হয়েছে ৯টি মরদেহ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার লক্ষীপুর সরকার বাড়ি থেকে জাহেদ সরকারের উন্নত প্রজাতির ৫টি গাভী, ভাটিপাড়া মড়লপাড়া এলাকার নেজামুল ইসলামের উন্নত প্রজাতির ৩টি গাভী, নয়াপাড়া শহিদুল ইসলামের উন্নত জাতের গাভী, চর হরিপুর এলাকার জালাল ডিলালের ৫ গরু চুরিসহ দুই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে অন্তত ৪০টি গরু চুরি হয়েছে।
গরু চুরি ঠেকাতে গত শুক্রবার (৭ জুলাই) চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিট পুলিশিং সভা করেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ কামাল আকন্দ। বিট পুলিশিং সভায় জানানো হয়, এসব এলাকায় ৩০ জনের কমিটি করে দেয়া হবে। তাদের একটি করে পরিচয় পত্র দেওয়া হবে। পরিচয়পত্র দেখিয়ে রাতে ওই এলাকায় সন্দেহজনক লোকদের তল্লাশি করতে পারবেন। প্রতি রাতে কমিটির ৫ জন করে এলাকায় ডিউটি করার কথাও বলা হয় ওই সভায়। এরপর থেকে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি টহল টিম নিয়মিত প্রতি রাতে ডিউটি করে আসছেন। তারপরেও গরু চুরির উপদ্রব কমছে না।
চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের খালবাড়ি এলাকার কামাল হোসেন বলেন, চর হরিপুর, বাজিতপুর, আলালপুর, গ্রামে অন্তত ৪০টি গরু চুরি হয়েছে। আমারও দুটি গাভী আছে। গত এক দেড় মাস যাবত রাতে না ঘুমিয়ে গরু পাহাড়া দিচ্ছি। শুধু আমি একা না আমার মত যত গরু মালিক আছেন, তাদের সবারই একই অবস্থা। বড় ধরনের চক্র এসব গরু চুরি করছে। পুলিশ যদি এদের গ্রেফতার করতে না পারে, তাহলে নিরাপত্তার অভাবে গরু বিক্রি করা ছাড়া উপাই নেই।
চর লক্ষ্মীপুর নয়াপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি খুব গরিব মানুষ। সমিতি থেকে টাকা তুলে গাভীটি কিনেছিলাম। গাভীটি দৈনিক ১৫ লিটার দুধ দিত। ওই দুধ বিক্রি করে সংসার চলতো ও সমিতির কিস্তি দিতাম। গাভীর দাম হবে অন্তত আড়াই লক্ষ টাকা। গাভীটি চুরি হওয়ার পর থেকে খুব কষ্টে আমার দিন কাটছে। তিনি বলেন, যাদের গরু আছে, প্রত্যেকেই রাতে নির্ঘুম থেকে গরু পাহাড়া দিচ্ছেন। তারা দিনের বেলায় কোন কাজ করতে না পারায় পরিবার নিয়ে তারাও বিপাকে আছেন।
এসব এলাকার মাইনউদ্দিন, মফিদুল ইসলাম, হাসিম উদ্দিন, হেলাল মিয়াসহ অন্তত ২০ জনের গরু চুরির চেষ্টা করেন। তবে, এলাকাবাসী টের পেয়ে ধাওয়া দেয়ায় চোরেরা গরু রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় আলিমুল হাসান বলেন, ওসি সাহেব বিট পুলিশিং সভা করার পর নিয়মিত এলাকায় পুলিশ পাহাড়া দিচ্ছে। গরু চুরি যদি ঠেকানো না যায়, তাহলে কিছুদিনের মাঝে গ্রাম গরু শুন্য হয়ে পড়বে।
চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা সেলিম বলেন, সম্প্রতি আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম থেকে অন্তত ৩০টি গরু চুরি হয়েছে। চুরি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি রাতেই গ্রামে গ্রামে পুলিশ টহল দিচ্ছে। আশা করছি, অচিরেই চুরি কমে আসবে এবং চক্রটিকে পুলিশ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, এসব এলাকায় গরু চুরি নিয়ন্ত্রণে বিট পুলিশিং সভা করা হয়েছে। গরু চুরি ঠেকাতে প্রতি গ্রামে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাছাড়া, এসব এলাকায় নিয়মিত রাতে টহল পুলিশ ডিউটি করছে। অচিরেই চোরদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বাবু/জেএম