
X
২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি নতুন করে ৮১টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার। এরমধ্যে একটি ছিল লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চামটারহাটে অবস্থিত এ এম রথবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যারা শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এমপিওভুক্ত হওয়ার পর তাদের একটি অংশ তথা ৩ শিক্ষক ও এক জন আয়াকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার পাঁয়তারা করে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ উঠেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মদাতি ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা বলেন, এমপিওভুক্ত হওয়ার পর স্কুলের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক উভয়েই নতুন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার নামে, নিয়োগ বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্ধকোটি টাকা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক কর্মচারীর অভিযোগ, আমাদের এমপিও ভুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণ না করে বরং আমাদেরকে স্কুলে আসতে নিষেধ করে নতুন করে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের পায়তারা করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ করেছেন ১৫ই ডিসেম্বর-২০০৪ সালে সহকারী কৃষি শিক্ষক হিসাবে কর্মরত হিতেষ কুমার রায়, ১লা জানুয়ারি ১৯৯৯ সালে যোগদানকৃত আয়া পদে কর্মরত আরজিনা বেগম ১৫ আগস্ট-২০১৫ সালে যোগদানকৃত সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম ১৫ আগস্ট-২০০৮ সালে যোগদানকৃত গনিত শিক্ষক আব্দুল জলিল প্রমুখ।
এদের ৪ জন শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ২ জন শিক্ষক কর্মচারী ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত ৩০ শে মে-২০২৩ইং তারিখে লালমনিহাট জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিধি মোতাবেক আমরা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছি। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ব্যানবেইস ২০১৩ হতে অধ্যবধি পযর্ন্ত অনলাইনে সংগৃহীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্য অনুযায়ী আমাদের তথ্য হালনাগাদ রয়েছে। এ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব আমাদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করে বলেন তোমাদের পরিবর্তে আমি নতুন করে অন্য শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিব। তোমাদের স্কুলে আসার কোন প্রয়োজন নেই।
শিক্ষকদের এমন অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জানাগেছে তিনি এসব পদের বিপরীতে নতুন করে লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তবে বাদপড়া শিক্ষক হিতেষ বলেন, আমি হিন্দু সংখ্যালঘু বলে আমার উপর প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা করে আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে। স্কুলে তো কেউ এমনি এমনি নিয়োগ পায় না তাদের মোটা অংকের ডোনেশন গুনতে হয়। আমাকে ও গুনতে হয়েছে। এখন আরোও বেশি পেয়ে আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আমি একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক অগ্রাধিকার দিয়েছেন বেশি অর্থ প্রদানকারী শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। একইসঙ্গে অর্থ না দেওয়া বা নিতে না পারার কারণে নতুন তালিকায় বাদ পড়েছেন শিক্ষক কর্মচারী মিলে ৪ জন।
তবে উল্লেখ্য যে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ২৬(খ) মোতাবেক ১৭.২ নং দফা অনুসারে ৩৭.০০.০০০০.০৭৪.০২৭.০০২.২০১৯-৩৬৬ স্মারকমূলে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও কোড পাওয়ার পর ব্যক্তি এমপিওভুক্তির জন্য ২০১৩ সাল থেকে ব্যানবেইস অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্যাদির সহিত ব্যক্তির জন্য এমপিওভুক্তির দাখিল কৃত কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে ব্যক্তি এমপিও ভুক্তির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাদ দেয়ার পাঁয়তারা কৃত ৪ শিক্ষক কর্মচারীর তথ্যাদি রীতিমত অনলাইন ব্যানবেইসে অদ্যাবধি পর্যন্ত সংরক্ষিত রয়েছে। এদের বাদ দিয়ে নতুন করে ব্যক্তি নিয়োগের কোন সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে বলেন, কোন শিক্ষক যদি যোগদান করে কয়েক বছর চাকরি করে বাদ দেয় তাহলে তো নতুন শিক্ষক নিয়োগ করা হবেই। সভাপতি প্রশ্নে তিনি বলেন, এক সভাপতি ২ বারের বেশি কমিটিতে আসতে পারবে না এটা সম্পর্কে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। চিঠি পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আর জমি দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান আছে।
জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল বারী বলেন, এমপিওভুক্তির পরে পূর্বের শিক্ষককে বাদ দিয়ে নতুন ঘরে শিক্ষক নিয়োগের কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাবু/জেএম